দুমকিতে ২০২৫ সালের প্রশ্নপত্রে হলো ২০মিনিট এসএসসি পরীক্ষা

দুমকি (পটুয়াখালী)প্রতিনিধি : পটুয়াখালীর দুমকিতে এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন বাংলা প্রথম পত্র পরীক্ষায় জয়গুন্নেছা এস এস কেন্দ্রে (৩১২) দুইটি কক্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে ২০২৬ সালের পরিবর্তে ২০২৫ সালের পুরাতন সিলেবাসের প্রশ্ন বিতরণের অভিযোগ উঠেছে। জানাগেছে, উক্ত কেন্দ্রের এক ও দুই নম্বর কক্ষের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরাতন সিলেবাসের নৈব্যত্তিক প্রশ্ন বিতরণ করে পরীক্ষা নিচ্ছিলেন। পরীক্ষার বিশ মিনিট অতিবাহিত হওয়ার পর শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারে উক্ত প্রশ্নটি অনিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য। শিক্ষার্থীদের অভিযোগের পর কতৃপক্ষের নজরে আসলে ওই প্রশ্ন গুটিয়ে নিয়ে নতুন ২০২৬ সালের সিলেবাসের প্রশ্ন দেয়া হয় এবং অতিরিক্ত বিশ মিনিট সময় দেয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর পনের মিনিট আগে পরীক্ষার্থীদের ওএমআর শিট দেয়া হয় এবং তারা তা যথাযথভাবে পূরন করেন। কিন্তু পরীক্ষার মাঝপথে ভুল হওয়া প্রশ্নের ওএমআর শিট তুলে নিয়ে নতুন ওএমআর শিট দেয়া হলেও তাদের বাড়তি কোন সময় দেয়া হয়নি। যা পরীক্ষার ফলাফলে মারাত্মক প্রভাব পড়বে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক পরীক্ষার্থী। অনেক পরীক্ষার্থীর অভিযোগ এ সমস্যার কারনে তারা নৈব্যত্তিক সঠিকভাবে বৃত্ত ভরাট করতে পারেনি। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, এ কারনে নৈব্যত্তিক পরীক্ষায় তারা ফেল করবেন। পরীক্ষা শেষে পরীক্ষার্থীরা বাইরে বেড় হলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যা পুরো দুমকিতে এ নিয়ে তোলপার শুরু হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রের বাইরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জটলা করে ডাকাডাকি ও চিৎকার করেন। অনেক শিক্ষার্থী অভিভাবকদের জড়িয়ে কান্না করতে থাকেন। সূত্রে জানাগেছে উক্ত দুইটি কক্ষে পাশ্ববর্তী বাউফল উপজেলার বগা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও দুমকি একে মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে পরীক্ষার্থী নওরিন ইসলাম নাবিয়া,সর্মিলা, সাইবা জাহান ছারা ও রাফিয়া বলেন, ” আমরা প্রশ্নপত্র পাওয়ার পরে কিছু প্রশ্নের উত্তর করেছি। অনেক প্রশ্নের উত্তর পারছিলামনা। এর পরে দেখি প্রশ্নের উপরে লেখা রয়েছে ২০২৫ সালের সিলেবাস অনুযায়ী। বিষয়টি স্যারদের বললেও প্রথমে তারা কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তাদের কিছু করার নাই বলে জানান। পরে আমরা তাদেরকে অনুরোধ করি আমরা ২০২৬ সালের প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ার কথা। আমাদের সর্ট সিলেবাসে পরীক্ষা দেয়ার কথা। পরে স্যারেরা আমাদের আস্বস্ত করেন নতুন প্রশ্ন আসছে তোমরা অপেক্ষা করো। এর পর আমাদের পুনরায় ওএমআর শিট ও প্রশ্ন দেয়া হয়। ততক্ষণে আমাদের প্রায় চল্লিশ মিনিট নষ্ট হয়েছে। কিন্তু আমাদের বাড়তি সময় দেয়া হয়েছে বিশ মিনিট। নতুন ওএমআর শিটে নাম রোল রেজিঃ ভরাট করতেই ১৫ মিনিট লাগে। আমরা বাড়তি সময় পেয়েছি ৫ মিনিট। আমাদের অনেকেই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে নাই। আমাদের মধ্য অনেকেই মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে। এ সমস্যায় অনেকেই ভালো ফলাফল করতে পারবে না।”
অভিভাবক বেলাল হোসেন জানান, কতৃপক্ষের ভুলের কারনে আমাদের সন্তানের ফলাফলে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। আমরা এর যথোপযুক্ত বিচার দাবি করছি।
ওই কেন্দ্রের দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. শফিকুল ইসলাম আই সিটি কর্মকর্তা সমীর চন্দ্র ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “ভুলবশত পুরাতন সিলেবাসের প্রশ্ন বিতরণ করা হয়েছিলো। পরে আমি ওই প্রশ্ন গুটিয়ে নিয়ে নতুন সিলেবাসের প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছি। পরীক্ষার্থীদের ২০ মিনিট সময় বাড়িয়ে দিয়েছি। বিষয়টি বরিশাল বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ওই সময়ে জানানো হয়নি, এখন জানাবেন।”
জয়গুন্নেছা কেন্দ্রের (৩১২) সচিব সত্যরঞ্জন দাস বলেন, ভুলবশত পুরাতন সিলেবাসের প্রশ্ন দেয়া হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত সময় দিয়ে নতুন সিলেবাসের প্রশ্নে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে।
দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( অতিরিক্ত দায়িত্ব) রওজাতুন জান্নাত বলেন, বিষয়টি অবহিত হয়েছি। বিধিমোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। উক্ত কেন্দ্রে ৪৩১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৪২৮ জন পরীক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।




আপনার মন্তব্য লিখুন