পটুয়াখালীর মহিপুরে কারিতাস বরিশাল অঞ্চলের প্রয়াস প্রকল্পের উদ্যোগে ভার্মি কম্পোস্ট সার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণকে আরও গতিশীল করতে স্থানীয় সরকার, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা, সার ব্যবসায়ী, বাজার কমিটি, কৃষক প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের অংশগ্রহণে অ্যাডভোকেসি ও লিংকেজ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১০ জুন) বিকেল ৩টায় কারিতাস মহিপুর কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভার মূল লক্ষ্য ছিল প্রয়াস প্রকল্পের উপকারভোগীদের উৎপাদিত ভার্মি কম্পোস্ট সার বাজারজাতকরণে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি, সচেতনতা তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতা নিশ্চিত করা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সর্বজনীন প্রার্থনার মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিষয়ে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্যচিত্র ও কার্যক্রম মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্পের অগ্রগতি, উৎপাদন পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য বাজার সম্প্রসারণ সম্পর্কে ধারণা লাভ করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রয়াস প্রকল্পের মাঠ কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন। তিনি বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদিত জৈব সার কৃষকদের কাছে সহজলভ্য করতে এবং বাজারে টেকসই অবস্থান তৈরি করতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। প্রকল্পের মাধ্যমে উৎপাদক ও বাজারের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান। তিনি বলেন, “পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ভার্মি কম্পোস্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”

সার ডিলার আমির হোসেন কাজী বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত মানসম্মত ভার্মি কম্পোস্ট কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে বাজারভিত্তিক পরিকল্পনা এবং নিয়মিত প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এক্যাব ও ধরিত্রী প্রকল্পের জুনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার মি. জর্জ বৈরাগী, আইডিপিডিসি প্রকল্পের এলসিএমও মি. মং ম্যা, মহিপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান আকাশ, কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক মো. আবুল হোসেন রাজু, কৃষক আঃ রহিম ও কৃষাণি অনিতা বালা।
বক্তারা বলেন, ভার্মি কম্পোস্ট শুধু একটি জৈব সার নয়, এটি পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। উৎপাদকদের জন্য বাজার সৃষ্টি, কৃষকদের প্রশিক্ষণ এবং ভোক্তাদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশগ্রহণকারীরা ভার্মি কম্পোস্টের গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, বাজার সম্প্রসারণ, কৃষক পর্যায়ে ব্যবহার বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় এবং সার ব্যবসায়ীদের সম্পৃক্ততার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। কো-অপারেটিভের নেতৃবৃন্দও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্বে অংশগ্রহণকারী সকল অতিথি, কৃষক প্রতিনিধি, বাজার কমিটি, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে সমাপনী বক্তব্য প্রদান করা হয়। সভায় স্থানীয় কৃষক, প্রকল্পের উপকারভোগী, বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।