পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বিএনপিপন্থি কর্মকর্তা সংগঠন জিয়া পরিষদের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, আর্থিক অসচ্ছলতা ও সাংগঠনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগগুলো সংগঠনের অভ্যন্তরীণ হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান খামার তত্ত্বাবধায়ক ও জিয়া পরিষদের নির্বাহী সদস্য আরিফুর রহমান নোমান সংগঠনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এক বার্তায় বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলেন। ওই বার্তার স্ক্রিনশট অনুযায়ী, গত ২৭ এপ্রিল তিনি দাবি করেন, বর্তমান কমিটি সদস্যদের কাছ থেকে আদায়কৃত চাঁদার স্বচ্ছ হিসাব দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট প্যানেলের প্রতি সংগঠনের নির্লিপ্ততা ছিল এবং জিয়া পরিষদের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন স্থানে অর্থ সংগ্রহ বা চাঁদাবাজির ঘটনাও ঘটেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান কমিটির প্রতি অনাস্থা জানাতে সদস্যদের মতামতও আহ্বান করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জিয়া পরিষদের এক কর্মকর্তা জানান, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় স্থানীয় বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণার জন্য লিফলেট, পোস্টার ও ফেস্টুন ছাপানোর কথা বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা এবং বাইরের বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে লক্ষাধিক টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে সেই অর্থ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে আরিফুর রহমান নোমান বলেন, ‘অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন নির্বাচন স্থগিতের পেছনে জিয়া পরিষদের কয়েকজন নেতার ভূমিকা ছিল। ক্ষমতা হারানোর আশঙ্কায় তারা নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিত করিয়েছেন।’ তবে চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়টি তাঁর ক্ষোভ ও হতাশা থেকে দেওয়া মন্তব্যের অংশ ছিল।
এদিকে জিয়া পরিষদের সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবুবকর সিদ্দিক অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ‘নোমানের সঙ্গে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। তিনি কেন এ ধরনের মন্তব্য করেছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন।
অভিযোগগুলোর কোনো সত্যতা নেই।’ তবে অভিযোগগুলো অসত্য বলে দাবি করলেও এ বিষয়ে আরিফুর রহমান নোমানের কাছে কোনো লিখিত বা মৌখিক ব্যাখ্যা চাওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।
অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের ঘটনায় পবিপ্রবির কর্মকর্তা মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিষয়টি নিয়ে সংগঠনের ভেতরে বিভক্তির আভাসও দেখা দিয়েছে।