নিজস্ব প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)মহসিন হোসেন জয়
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার দক্ষিণ আমখোলা ৩ নম্বর ওয়ার্ডে একটি সড়ক কার্পেটিংয়ের কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। কাজের তদারকিতে থাকা সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতেই সিডিউল বহির্ভূতভাবে নামমাত্র বিটুমিন ও কম পুরুত্ব দিয়ে কার্পেটিংয়ের কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে এই অনিয়ম হাতেনাতে ধরে ফেলার পর তড়িঘড়ি করে পুনরায় বিটুমিনের প্রলেপ দেওয়ার চেষ্টা করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ আমখোলা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই সড়কটির কার্পেটিং কাজ চলার সময় শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠছিল। আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে স্থানীয় সংবাদকর্মী মহসিন হোসেন জয়সহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী প্রকল্প এলাকায় পরিদর্শনে যান।
সেখানে তারা দেখতে পান, সিডিউল অনুযায়ী ২৫ মিলিমিটার (মিমি) পুরুত্বের কার্পেটিং করার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২০ থেকে ২২ মিলিমিটার
অর্থাৎ, প্রতি মিটারে ৩ থেকে ৫ মিলিমিটার কম পুরুত্ব দিয়ে কাজ বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
গণমাধ্যমকর্মীরা কাজের অনিয়ম ধরে ফেলার পর ঠিকাদারের লোকজন তড়িঘড়ি করে তাসের ঘরের মতো ভেঙে যাওয়া অংশের ওপর পুনরায় বিটুমিন ঢালতে শুরু করে।
যা ঘটেছিল প্রকল্প এলাকায়:
সড়কের কাজের গুণগত মান ও মাটির নিচের স্থায়িত্ব যাচাইয়ের জন্য সংবাদকর্মীরা প্রকল্প এলাকায় উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের কাছে ‘ডিসিপি’(DCP – Dynamic Cone Penetrometer) পরীক্ষার ফলাফল দেখতে চান।
সড়ক নির্মাণ বা কার্পেটিংয়ের সময় নিচের মাটি বা সাবগ্রেড কতটা শক্ত আছে, ঠিকভাবে কম্প্যাকশন (মাটি শক্তকরণ) হয়েছে কিনা এবং রাস্তাটি ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী কিনা—তা এই ডিসিপি টেস্টের মাধ্যমে নির্ণয় করা হয়।
কিন্তু প্রকৌশল শাখা বা ঠিকাদারের প্রতিনিধিরা সেই পরীক্ষার কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। সরে জমিনে গলাচিপা উপজেলা প্রকৌশলী মো. জাহাঙ্গীর আলম
অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “রাস্তার কাজ একদম ঠিক রয়েছে।” ২৫ মিলির জায়গায় ২০-২২ মিলি দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর না দিয়ে দাবি করেন, “কাজ ২৫ মিলিতেই দেওয়া হচ্ছে।
তবে ডিসিপি পরীক্ষার রিপোর্ট দেখাতে না পারার বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরকারি বিপুল অর্থ ব্যয়ে এই সড়কটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৌশলীদের উপযুক্ত তদারকির অভাব এবং ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে উদ্বোধনের আগেই সড়কটি টেকসই যোগ্যতা হারাচ্ছে।
এই বর্ষায় সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটির কার্পেটিং উঠে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। এলাকাবাসী দ্রুত এই অনিয়ম বন্ধ করে সিডিউল অনুযায়ী যথাযথভাবে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।