পটুয়াখালীতে খাবারের মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রিভিউ দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাতীয় ছাত্রশক্তির যুগ্ম সদস্য সচিব ও তরুণ ফুড ব্লগার মো. লুৎফর রহমান সুফিয়ানকে (২১) প্রাণনাশের হুমকি ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পটুয়াখালী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পাশাপাশি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

বুধবার বিকেল ৫টার দিকে পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সুফিয়ান। তিনি জানান, গত ১৪ মে রাতে তিনি তাঁর দুই বন্ধুকে নিয়ে পটুয়াখালী পৌরসভার হেতালিয়া বাঁধঘাট এলাকায় অবস্থিত ‘হোটেল সিঙ্গাপুর’ নামের একটি রেস্তোরাঁয় নৈশভোজ করতে যান। খাবার পরিবেশনের পর খাবারের মান সন্তোষজনক না হওয়ায় তারা বিষয়টি দায়িত্বরত কর্মচারীদের অবহিত করেন। তবে অভিযোগ দেওয়ার পরও রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সুফিয়ান আরও জানান, পরবর্তীতে গত ১৮ মে তিনি ‘ফুড ব্লগার্স অব পটুয়াখালী’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে ওই রেস্তোরাঁর খাবারের মান নিয়ে একটি রিভিউ পোস্ট করেন। রিভিউটি প্রকাশের পরদিন ১৯ মে দুপুরে রেস্তোরাঁটির মালিক মো. জলিল ফেসবুক আইডির মাধ্যমে কল করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং লোকজন দিয়ে মারধরসহ প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সুফিয়ান দাবি করেন, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে চাইলে তাঁদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। একই রাতে রেস্তোরাঁ মালিক পক্ষ পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে অভিযোগ তোলে যে, সুফিয়ান ও তাঁর সঙ্গীরা বিল পরিশোধ না করেই রেস্তোরাঁ ত্যাগ করেন।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে সুফিয়ান বলেন, খাবারের বিল পরিশোধের ডিজিটাল পেমেন্ট স্লিপ ও ভিডিও প্রমাণ তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। তিনি বলেন, “একজন ভোক্তা হিসেবে খাবারের মান নিয়ে মতামত প্রকাশ করায় আমাকে ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর আগেও অনেক ভোক্তা ওই রেস্তোরাঁর খাবারের মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, রেস্তোরাঁটির পরিবেশিত খাবারের গুণগত মান ভালো নয় এবং তাদেরও খারাপ অভিজ্ঞতা রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত জাতীয় ছাত্রশক্তির পটুয়াখালী জেলা আহ্বায়ক মিরাজ ইমতিয়াজ বলেন, “এই হোটেলে সরকারি ট্যাক্স ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিভিন্ন অনুষ্ঠানও এখানে আয়োজন করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে বিল নেওয়া হয় না । এছাড়া হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাচারের অভিযোগও রয়েছে।” তিনি এসব অভিযোগের বিষয়ে দুদক এনবিআর সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানান।

এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ফুড ব্লগার মো. লুৎফর রহমান সুফিয়ান।