২০০৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের কার্যক্রম থেকে অবশিষ্ট চাকরিকাল পর্যন্ত বহিষ্কার হওয়া শিক্ষক ইব্রাহিম খলিলই এবার পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিষয়টি সামনে আসার পর শিক্ষা প্রশাসন ও সচেতন মহলে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০০৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ব্যবহারিক পরীক্ষায় ব্যাপক অনিয়ম, খাতা না দেখে নম্বর প্রদান এবং পরীক্ষার্থীদের অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনার পর বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রটি বাতিল করে এবং পরবর্তী পাঁচ বছর পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে তৎকালীন সহকারী শিক্ষক ইব্রাহিম খলিলসহ ছয়জন শিক্ষককে অবশিষ্ট চাকরিকাল পর্যন্ত শিক্ষা বোর্ডের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
বোর্ড সূত্রে জানা যায়, রেজুলেশনে ইব্রাহিম খলিলকে কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছিল। তবে দুই দশক পর পুনরায় তাকে জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সচিব হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তার দায়িত্বে থাকা কেন্দ্রেই এবার এসএসসি পরীক্ষায় ভুল সেটে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (১০ মে) অনুষ্ঠিত পদার্থ বিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষায় বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সব কেন্দ্রে নির্ধারিত ১ নম্বর সেট কর্ণাক এ পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও পটুয়াখালী সরকারি জুবিলী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ৩ নম্বর সেট লুক্সর এ পরীক্ষা নেওয়া হয়। পরীক্ষা শেষে বিষয়টি প্রকাশ পেলে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কেন্দ্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ইব্রাহিম খলিল। হল সুপার ছিলেন বাবুল আখতার। কমিটির সদস্য হিসেবে ছিলেন সাঈদুল হক আজাদ, শাহ আলম ও রুবেল হোসেন। অভিযোগ রয়েছে, হল সুপার বাবুল আখতার পরীক্ষার সময় ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করেন। শিক্ষা বোর্ডের বিধি অনুযায়ী পাবলিক পরীক্ষা চলাকালে হল সুপারের ছুটি নিতে হলে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের অনুমতি প্রয়োজন হলেও তা অনুসরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া কেন্দ্র পরিচালনা কমিটির সদস্য রুবেল হোসেনের চাকরি এখনো স্থায়ী হয়নি বলে জানা গেছে। স্থায়ী নিয়োগ সম্পন্ন না হওয়া একজন শিক্ষককে পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। পুরো কমিটি গঠনের কোনো লিখিত আদেশ বা অনুমোদন পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। বোর্ডের মৌখিক নির্দেশনায় কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে কেন্দ্র সূত্র দাবি করেছে।
অভিযোগের বিষয়ে কেন্দ্র সচিব ইব্রাহিম খলিল বলেন, পরীক্ষার বিষয়টি সমাধান হয়েছে এবং বহিষ্কার আদেশ প্রত্যাহার হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি, তবে এর কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই বলে জানান। হল সুপার বাবুল আখতার বলেন, তিনি কেন্দ্র সচিবের কাছ থেকে ছুটি নিয়েছেন, তবে বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন ও বোর্ডকে অবহিত করা হয়নি বলে জানা গেছে।
বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর জিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ বিবেচনায় যে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই অনুযায়ীই উত্তরপত্র মূল্যায়ন করা হবে। তবে দায়িত্বে অবহেলা ছিল কি না তা তদন্ত করে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। ইব্রাহিম খলিলের পূর্বের বহিষ্কারাদেশ বিষয়ে তিনি জানান, বিষয়টি অনেক আগের হওয়ায় তার জানা নেই।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারেক হাওলাদার বলেন, কেন্দ্র সুপার, সচিব, ট্যাগ অফিসারসহ সংশ্লিষ্টদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ পাঠানো হবে।