পটুয়াখালীতে পহেলা বৈশাখের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে মঞ্চে উঠে মারধর, গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগে মোসাঃ সামসুন্নাহার পারভীন নামের এক নারীর বিরুদ্ধে আদালতে নালিশী মামলা দায়ের করেছেন মোসাঃ হাওয়া (সাবরিনা)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল ২০২৬ (পহেলা বৈশাখ) উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে একটি বর্ষবরণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ পান বাদী। তিনি তার শিশু ও সিনিয়র শিল্পীদের নিয়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে সঞ্চালক ও সাক্ষী মোসাঃ ইয়া হাদিয়া সোনামনি মাইকে তাদের সংগঠনের নাম ঘোষণা করে মঞ্চে আহ্বান জানান।
বাদী শিল্পীদের নিয়ে মঞ্চে উঠে তাদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানোর সময় আসামী সামসুন্নাহার পারভীন উত্তেজিত হয়ে মঞ্চে উঠে শিশু শিল্পীদের জোরপূর্বক নামিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বাধা দিলে আসামী ক্ষিপ্ত হয়ে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং তার স্বামীর প্রভাব দেখিয়ে খুন–জখমের হুমকি দেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। একপর্যায়ে আসামী বাদীর উপর শারীরিকভাবে হামলা চালান। তিনি বাদীর মুখে চড়–থাপ্পড়, বুকে ও পিঠে কিল–ঘুষি মারেন এবং চুল ধরে টেনে মঞ্চে ফেলে দেন। এতে বাদীর পোশাক বিশৃঙ্খল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। পরে উপস্থিত সাক্ষীরা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
ঘটনার সময় বাদীর শিশু কন্যা অনুভা মায়ের ওপর হামলা দেখে চিৎকার করলে তাকেও ধাক্কা দিয়ে মঞ্চ থেকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উপস্থিত এক নারী সাক্ষী তাকে রক্ষা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে অন্যান্য সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠান বর্জন করে শিল্পীদের নিয়ে স্থান ত্যাগ করেন। শত শত নারী–পুরুষ দর্শকের সামনে এমন ঘটনায় এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
সচেতন মহল এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। উপস্থিত সাক্ষীরা সবাই অভিযুক্ত সামসুন্নাহার পারভীনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। তারা জানান, অভিযুক্ত পারভীন পূর্ব থেকেই উগ্র মেজাজের এবং তার বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার পর বাদী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তিনি জেলা প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানান এবং সাংগঠনিক শাস্তির দাবি করেন। তবে সাক্ষীদের মধ্যস্থতায় আপোষের চেষ্টা করা হলেও আসামী তা প্রত্যাখ্যান করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সামসুন্নাহার পারভীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করে কেটে দেন।