আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, ববি প্রতিনিধি

আজ সকালে আকাশটা একটু মেঘলা ছিল। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় পাশে ভোলা রোড ধরে হাঁটতে হাঁটতে মনটা কেমন যেন আনমনা হয়ে উঠছিল। হঠাৎ রাস্তার বাঁকে তাকাতেই থমকে যেতে হলো। মনে হলো, কে যেন সবুজের মাঝে এক মুঠো লাল আবির ছিটিয়ে দিয়েছে! মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে একটা বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছ। সারা গাছ জুড়ে উজ্জ্বল লাল ফুলের মেলা। এমন সুন্দর দৃশ্য দেখে বুকটা ভরে গেল। প্রখর রোদে যে ফুলগুলো এত উজ্জ্বল, মেঘলা আকাশেও তাদের সৌন্দর্য যেন আরও বেশি চোখ ধাঁধানো।

কিন্তু এই সৌন্দর্য দেখেই অদ্ভুতভাবে মনটা ভারী হয়ে উঠল। কৃষ্ণচূড়ার এই লাল রং মুহূর্তে আমাকে অনেক বছর পিছিয়ে নিয়ে গেল। চোখের সামনে ভেসে উঠল আমাদের সেই পুরোনো বাড়ি। বাড়ির উঠোনে এমনই বড় বড় কৃষ্ণচূড়া গাছ ছিল। গ্রীষ্মকালে যখন হাওয়া বইত, তখন সারা উঠোন লাল ফুলে ভরে যেত। আমরা ছোটরা সেই ফুল নিয়ে খেলতাম, মা আর দাদি গাছের তলায় বসে গল্প করতেন। সেই বাড়ির পুকুরের উত্তর পশ্চিম কোণায় মিশে আছে আমাদের কত স্মৃতি ।

হঠাৎ করে সব বদলে গেল। যে নদীটা আমাদের বাড়ি থেকে দূরে ছিল, ধীরে ধীরে তা কাছে আসতে শুরু করল। নদী ভাঙনের কবলে পড়ল আমাদের প্রিয় বাড়ি। আমাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে সরে যেতে হলো। সব চলে গেল, আর তার সাথে চলে গেল সেই সুন্দর কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো। বাড়ির স্মৃতি রক্ষা করার জন্যই সেগুলোকে কেটে ফেলা হয়েছিল। এখন সেখানে শুধু নদীর জল আর আমাদের হারানো স্বপ্নের কথাগুলো ভেসে বেড়ায়।

আজ ভোলা রোডের এই গাছটি দেখে আমার পুরোনো স্মৃতিগুলো আবার জেগে উঠেছে। এই ফুলগুলো শুধু ফুল নয়, এরা আমাদের ইতিহাসের সাক্ষী। এরা আমাকে মনে করিয়ে দেয় যে যদিও আমাদের বাড়ি নদীর জলে মিশে গেছে, আমাদের স্মৃতিগুলো কখনো হারিয়ে যাবে না। যতদিন এই পৃথিবীতে কৃষ্ণচূড়া ফুটবে, ততদিন আমাদের হারানো বাড়ির কথা মনে থাকবে। আজ ভোলা রোডের এই কৃষ্ণচূড়া গাছটি আমার জন্য শুধু একটি গাছ নয়, এটি আমাদের হারানো ইতিহাসের একটি জানালা, যেখানে আমি আবার আমার পুরোনো বাড়ির কথা মনে করতে পারি।