পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালীশুরী ইউনিয়নের চাদকাঠি গ্রামের বাসিন্দা ফারুক হাওলাদারের পরিবার। এই পরিবারের ২৩ বছর বয়সী লামিয়া বেগম একসঙ্গে জন্ম দিয়েছেন পাঁচ সন্তান তিন ছেলে ও দুই মেয়ে।

 

গত বছরের ৬ অক্টোবর বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে জন্ম নেয় এই পাঁচ নবজাতক। বিরল এই ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় আনন্দের আমেজ সৃষ্টি হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই আনন্দ এখন রূপ নিয়েছে কঠিন বাস্তবতায়।

সকালের সূর্য ওঠার আগেই শুরু হয় পরিবারের ব্যস্ততা। একে একে পাঁচ শিশুর গোসল, খাওয়ানো, কাপড় বদলানো সবকিছু একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন স্বজনরা। একজন ঘুমিয়ে পড়লে অন্যজন জেগে ওঠে এভাবেই চলতে থাকে নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম।

লামিয়া বেগম বলেন, “আমার এই সন্তানদের সুস্থ রাখতে ঘুম-নিদ্রা কিছুই নাই। সরকার বা কোনো মানুষ যদি আমাদের পাশে দাঁড়াতো, তাহলে আমরা ওদের সুন্দরভাবে মানুষ করতে পারতাম। আল্লাহ আমাকে পাঁচটা সন্তান দিয়েছেন, আমি শুধু চাই ওরা সুস্থ থাকুক।”

সন্তান জন্মের পর থেকেই লামিয়া বাবার বাড়িতেই অবস্থান করছেন। তাঁর স্বামী সোহেল হাওলাদার একজন ক্ষুদ্র মুদি দোকানদার। সীমিত আয়ে পাঁচ সন্তানের ভরণপোষণ চালাতে গিয়ে পরিবারটি এখন প্রায় নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

শিশুদের নানী বলেন, “আল্লাহ আমাদের পাঁচটা নাতি-নাতনি দিয়েছে এটা খুশির। কিন্তু জন্মের পর থেকেই খুব কষ্ট হচ্ছে। ওদের বাবার ছোট দোকান, কোনোভাবে চলতেছি। সরকার আর মানুষের কাছে সহযোগিতা চাই। আমাদের ঘুম-নিদ্রা কিছুই নাই।”

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের ফিল্ড সুপারভাইজার হুমায়ন কবির বলেন, সমাজসেবা দপ্তর থেকে সরাসরি এমন কোনো সহায়তা না থাকলেও বাংলাদেশ জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের একটি তহবিল রয়েছে। ওই তহবিল থেকে প্রতিবছর অনুদান দেওয়া হয় এবং আবেদন করলে পরিবারটিকে সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম যেমন বিরল ঘটনা, তেমনি তাদের লালন-পালনও বড় চ্যালেঞ্জ। প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে পরিবারটি এই শিশুদের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে পারবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।