মহসিন হোসেন জয় :  গলাচিপা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ১ নং আমখোলা ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বলইকাঠি গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবন যেন এক অনিশ্চয়তার নাম। বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকিপূর্ণ একটি ভাঙা সেতু পার হয়েই স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ প্রায় তিন হাজার পরিবারকে চলাচল করতে হচ্ছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সেতু পাড়ি দেওয়া যেন তাদের নিত্যদিনের নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় পড়ে থাকা সেতুটি এখন আর চলাচলের উপযোগী নেই। সিমেন্টের সেলাব গুলো ভেঙে গেছে, কোথাও কোথাও বড় ফাঁক তৈরি হয়েছে। সামান্য অসাবধানতাই ঘটাতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা। বিশেষ করে শিশু শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাচ্ছে—যা অভিভাবকদের মনে সৃষ্টি করেছে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা।
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ, অসুস্থ রোগী—সবাই এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল। জরুরি সময়ে রোগীদের হাসপাতালে নিতে গিয়ে আরও ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, চিকিৎসা সেবা পেতে বিলম্ব হওয়ায় অনেক সময় বিপদের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। পানির তোড়ে সেতুটি আরও নড়বড়ে হয়ে পড়ে, ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তবুও বিকল্প পথ না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করছেন গ্রামবাসী।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, এটি শুধু একটি সেতুর সমস্যা নয়; এটি তাদের জীবন-জীবিকা, শিক্ষা ও চিকিৎসা সেবার সঙ্গে সরাসরি জড়িত একটি মৌলিক প্রয়োজন। বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত একটি টেকসই ও নিরাপদ সেতু নির্মাণ করে তাদের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘব করা হোক। তাদের প্রশ্ন—আর কতদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হবে?
এই সেতুটি যেন আজ শুধু কাঠ ও লোহার কাঠামো নয়, বরং অবহেলা আর প্রতীক্ষার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রামের মানুষ এখন অপেক্ষায়—কবে আসবে নিরাপদ পথের নিশ্চয়তা, কবে শেষ হবে এই অনিশ্চিত যাত্রা।