ফেসবুকে পোস্ট ও কমেন্ট করাকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় মো. ইদ্রিস নামের এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগসহ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

নিহত ইদ্রিস দক্ষিণ দৌলতপুর গ্রামের মৃত ইউসুফ খানের ছেলে। তিনি ঢাকায় সবজি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, জহিরুল ইসলামকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দলীয় সকল পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন চলাকালে ইদ্রিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে গরু চুরি ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে পোস্ট ও মন্তব্য করেন। এতে ক্ষুব্ধ হন অভিযুক্ত জহিরুল।
কিছুদিন আগে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন ইদ্রিস। ২৬ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পাখিমারা বাজারে গেলে জহিরুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা তাকে ডেকে ইউনিয়ন যুবদলের কার্যালয়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে দাবি স্বজনদের।
মারধরের পর শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম নিয়ে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরলেও সোমবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ইদ্রিস। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

এ প্রেক্ষাপটে দলীয় নীতি-আদর্শ ও সংহতি পরিপন্থী কর্মকাণ্ডের দায়ে কেন্দ্রীয় কমিটি বহিষ্কারে সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানাগেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বহিষ্কৃত নেতার কোনো ধরনের অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এমপি ইতোমধ্যে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন বলে জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সহ দপ্তর সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম ভূইয়ার স্বাক্ষর রয়েছে।