নিম্নচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাউফলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

নিচু এলাকার ফসলি জমি, পুকুর, বসভিটা তলিয়ে গেছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার প্রায় ২৫ গ্রামের মানুষ।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এতে উপকূলীয় অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। এর প্রভাবে বাউফলের তেঁতুলিয়া, কারখানা ও লোহালিয়া নদীর পানি স্বাভাবিকের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, উপজেলার তেঁতুলিয়া নদী মধ্যবর্তী ইউনিয়ন চন্দ্রদ্বীপের অধিকাংশ এলাকা জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও কালাইয়া, নাজিরপুর, কেশবপুর, ধুলিয়া ইউনিয়নের প্রায় ২৫ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানি বন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ।
জোয়ারের পানিতে প্রায় ৫৬১ হেক্টর জমির আমন বীজতলা তলি গেছে। 

কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. আনোয়ার বলেন, জোয়ারের পানিতে শুক্রবার থেকে আমরা পানি বন্দি হয়ে পড়েছি। রাস্তা ঘাট তলিয়ে গেছে। বসত ঘরে পানি ঢুকছে। ছেলে সন্তান নিয়ে দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছি।

চন্দ্রদ্বীপের বাসিন্দা রাজ্জাক মাঝি  বলেন, আমাদের চন্দ্রদ্বীপের চারপাশে নদী। বেঁড়িবাধ না থাকায় সহজেই জোয়ারের পানি ঢুকে পড়ে। বসঘর তলিয়ে যায়। জোয়ারের পানির সাথে বিষক্ত সাপ সহ পোকামাকড় ঢুকে পড়ে। আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাতে হয়।

কেশবপুর ইউনিয়নের মমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, মনিনপুর চর এলাকায় তেঁতুলিয়া নদীর পানি ঢুকে আমন বীজতলা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। বীজ পচে যাচ্ছে। এতে আমন বীজ সংকট দেখা দিবে।

এবিষয়ে বাউফল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, নিম্নচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ও বীজতলা তলিয়ে যাওয়ার খবর পেয়েছি। কৃষকের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপনে কাজ চলছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও দুর্যোগ মোকাবেলা কমিটির সদস্য সচিব মস্তফা মাইদুল বলেন, নিয়মতি আবহাওয়া বুলেটিন ফলো করা হচ্ছে।  দুর্যোগ মোকাবেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি  রয়েছে।  যে ধরনের নির্দেশ আসবে, সেই মোতাবেক কাজ করা হবে।