বাউফলের মাদককাণ্ডে আত্মগোপনে থাকা সেই যুবদল নেতার বিরুদ্ধে খাস জমি দখলের অভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে সরকারি খাস জমি (চান্দিনা ভিটি) দখল করে দোকান নির্মাণ এবং দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া আদায়ের অভিযোগ উঠেছে মাদককাণ্ডে আলোচিত এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, গত বছর ওই জমিতে তিনি পাকা স্থাপনাও নির্মাণ করেছেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এনামুল হক।
জানা গেছে, মদনপুরা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি পদপ্রত্যাশী আহাদুজ্জামান টিপু ওরফে টিপু খান সদর ইউনিয়নের আব্দুর রশিদ সরকার মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন বিলবিলাস বাজার এলাকায় প্রায় ৫ শতাংশ সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে রেখেছেন। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে দোকান নির্মাণ করে ভাড়া আদায় করছেন তিনি। সম্প্রতি ওই জমিতে পাকা স্থাপনাও নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা ভূমি অফিস সূত্র জানা গেছে , অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের দায়ে টিপু খানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অর্থদণ্ড দিয়েছিলেন এসিল্যান্ড সোহাগ মিলু। তবে প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও স্থাপনাটি অপসারণ করা হয়নি।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ দোকানঘরের দোতলা ব্যবহার করে টিপু খান মাদক কারবার পরিচালনা করতেন। সম্প্রতি তার মাদক সেবনের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে গত সপ্তাহে পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান চালায়। তবে আগেই খবর পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, টিপু খানের বড় ভাই টিটু খান ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে উপজেলার কানুনগো পদে কর্মরত থাকায় তার প্রভাব খাটিয়ে সরকারি জমি দখলে রাখা হয়েছে।
বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, “আমাদের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে। মূলত মাদকসহ কাউকে আটক করা গেলে মামলা করা সম্ভব হয়। যেহেতু তিনি পালিয়ে গেছেন, তাই এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের গোপন তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।”
বাউফল উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার এনামুল হক বলেন, “টিপু খান আমাদের কাছ থেকে জমির ডিসিআর নেননি। কীভাবে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সোহাগ মিলুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া যায়নি।




আপনার মন্তব্য লিখুন