আম খেলে কি আপনার ওজন বেড়ে যাবে?

আমের মৌসুম এসে গেছে, আর তার সঙ্গে এসেছে এটি খাওয়ার আকাঙ্ক্ষা এবং সতর্কতার টানাপোড়েন। দুপুরের খাবারের পর ঠান্ডা এক টুকরো আম থেকে শুরু করে একগ্লাস আমের জুস পর্যন্ত, ফলের রাজা একটি পরিচিত বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে! সেটি হলো আম খেলে ওজন বৃদ্ধির ভয়। অনেকেই আম পুরোপুরি এড়িয়ে চলেন এই ভেবে যে এটি ওজন বাড়ায়। কিন্তু এটিকি সত্যিই, না কি আমরা অন্য কিছুর জন্য ফলটিকে দোষারোপ করছি? আপনি যদি আম খেতে ভালোবাসেন, তবে জেনে নিন-

- বিজ্ঞাপন -

আম কি সত্যিই ওজন বাড়ায়?

পুষ্টিবিদদের মতে, শুধুমাত্র আম কোনো সমস্যা নয়। আম একটি মাঝারি গ্লাইসেমিক ইনডেক্সযুক্ত ফল, যার জিআই ৫১ থেকে ৬০-এর মধ্যে থাকে। ক্যালোরির দিক থেকেও এটি ততটা ভারী নয় যতটা অনেকে মনে করেন।

একটি আমে সাধারণত ২০০ থেকে ৩৫০ ক্যালোরি থাকে। আম ফাইবারেও সমৃদ্ধ, যা পেট ভরা রাখতে এবং হজমে সাহায্য করে।
এ কারণে আম অনেকভাবে খাওয়া যায়। এটি নাস্তা, ডেজার্ট, এমনকি ব্যায়ামের আগে খাওয়ার জন্যও বেশ ভালো।

আমের বদনাম কেন হয়

- বিজ্ঞাপন -

তাহলে আমকে কেন ওজন বাড়ানোর ফল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়? আসলে সমস্যাটি আমরা কীভাবে এটি খাচ্ছি তার মধ্যে নিহিত। যখন আমরা আমকে জুস, শেক, আইসক্রিম বা ডেজার্টে পরিণত করি, তখনই পরিস্থিতি পাল্টে যায়।

প্রক্রিয়াজাতকরণের ফলে আমের ফাইবার ভেঙে যায়, চিনি শোষণের হার বেড়ে যায়, অতিরিক্ত উপাদান আরও বেশি ক্যালোরি যোগ করে। তখন আকাঙ্ক্ষার থেকে বেশি খেয়ে ফেলা সহজ হয়ে যায়, যার ফলে অজান্তেই ক্যালোরি গ্রহণের পরিমাণ বেড়ে যায়।

আম খাওয়ার সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর উপায়

আমের রস না ​​করে সরাসরি খান। পেট ভরা অনুভূতির জন্য এর সঙ্গে কয়েকটি বাদাম খান। আপনি এটি খাবারের সঙ্গে বা পরে খেতে পারেন। এভাবে আমের প্রাকৃতিক ফাইবারের উপকার পাবেন এবং রক্তে শর্করার অপ্রয়োজনীয় বৃদ্ধি এড়াতে পারবেন।

ডায়াবেটিস রোগীরা কি আম খেতে পারেন?

আম পুরোপুরি নিষিদ্ধ নয়, এমনকি যারা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখেন তাদের জন্যও, তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াটাই মূল বিষয়। ডায়াবেটিস রোগীরা একটি ছোট আম খেতে পারেন, যদি তাদের শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল থাকে। বাদামের মতো প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবারের সঙ্গে এটি খেলে এর প্রভাব ভারসাম্য রাখতেও সাহায্য করতে পারে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

- Google -

আরও পড়ুন

Back to top button