কলাপাড়ায় পথকুকুর-বিড়ালদের জন্য ব্যতিক্রমী ঈদ আয়োজন

 

- বিজ্ঞাপন -

আসাদুল্লাহ হাসান মুসা, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ-

ঈদ মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর ভাগাভাগির উৎসব। নতুন পোশাক, পরিবারের সাথে সময় কাটানো আর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে মানুষ যখন ঈদের আনন্দে মেতে ওঠে, ঠিক তখনই শহরের অলিগলিতে নীরবে ঘুরে বেড়ায় কিছু অবহেলিত প্রাণ—ক্ষুধার্ত কুকুর ও বিড়াল। মানুষের উৎসব তাদের কাছে কেবল দূর থেকে দেখা এক দৃশ্য। তবে সেই নিরব প্রাণীদের ঈদটাকেও একটু আনন্দময় করে তুলতে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালী সেচ্ছাসেবী প্রানিকল্যান ও পরিবেশবাদী সংগঠন।

 

রবিবার (২২শে মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক বেওয়ারিশ কুকুর ও বিড়ালের মাঝে খাবার বিতরণ করে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা। ঈদের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন যেন ভালোবাসার এক নিঃশব্দ বার্তা পৌঁছে দেয়—এই পৃথিবী শুধু মানুষের নয়, প্রতিটি প্রাণীরও।

- বিজ্ঞাপন -

 

সরেজমিনে দেখা যায়, দলবদ্ধভাবে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে স্বেচ্ছাসেবীরা খাবার বিতরণ করছেন। কেউ ব্যস্ত খাবার প্রস্তুত করতে, কেউ বা তা পৌঁছে দিচ্ছেন ক্ষুধার্ত প্রাণীদের কাছে। দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকা কুকুর ও বিড়ালগুলো খাবার পেয়ে যেন একটুখানি স্বস্তি খুঁজে পায়। সেই দৃশ্য অনেক পথচারীর মন ছুঁয়ে যায়, কেউ থেমে দেখে, কেউ আবার প্রশংসা করে এই উদ্যোগের।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, “ঈদের সময় আমরা নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত থাকি। কিন্তু এই প্রাণীগুলোর কথা কেউ ভাবে না। আজকে এই দৃশ্য দেখে সত্যিই ভালো লাগছে, মনে হচ্ছে ঈদের আনন্দটা একটু ভিন্নভাবে ছড়িয়ে পড়ছে।”

 

সংগঠনের এক স্বেচ্ছাসেবক জানান, “আমরা মনে করি, দয়া আর সহমর্মিতাই মানুষের সবচেয়ে বড় গুণ। ঈদের আনন্দ যেন শুধু মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে, সেই ভাবনা থেকেই আমরা পথপ্রাণীদের জন্য এই ছোট্ট আয়োজন করেছি।”

 

কলাপাড়া টিম লিডার বায়জিদ মুন্সি বলেন, “ঈদ মানে শুধু নিজেরা আনন্দ করা নয়, বরং সব জীবের মাঝে সেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়া। আমরা চেষ্টা করেছি অন্তত একবেলা হলেও এই অবহেলিত প্রাণীগুলোর মুখে খাবার তুলে দিতে। ভবিষ্যতেও আমরা এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো এবং সমাজের সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই।”

এ বিষয়ে কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদিক বলেন, “ঈদের মতো একটি আনন্দঘন সময়ে বেওয়ারিশ প্রাণীদের কথা ভেবে এমন মানবিক উদ্যোগ সত্যিই অনুকরণীয়। সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষ যদি এভাবে এগিয়ে আসে, তাহলে শুধু মানুষ নয়—প্রতিটি প্রাণীর জন্যই একটি সহানুভূতিশীল পরিবেশ গড়ে উঠবে। অ্যানিমেল লাভার্স অব পটুয়াখালীর এই কার্যক্রম আমাদের সামাজিক দায়বদ্ধতার একটি সুন্দর উদাহরণ।”

এই উদ্যোগ শুধু খাবার বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সমাজে এক গভীর বার্তা ছড়িয়ে দেয়—সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ এবং সকল জীবের প্রতি ভালোবাসাই পারে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে। ঈদের প্রকৃত শিক্ষাই যেন এই আয়োজনের মাধ্যমে বাস্তব রূপ পেয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

- Google -

আরও পড়ুন

Back to top button