ফলাফল বিতর্কের জেরে পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র নিখোঁজ, মায়ের জিডি

পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে চলমান বিরোধের মধ্যে এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মা পটুয়াখালী সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
জিডি সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ শিক্ষার্থী সৃসানজিত কর্মকার পটুয়াখালী কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম-দশম শ্রেণির ছাত্র। তিনি গত বছরের ২০ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নেন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ফলাফল প্রকাশ করা হলে দেখা যায়, ১৩০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে মাত্র ১৪ জন সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হন, যা নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিভাবকদের অভিযোগ, নবম শ্রেণির নির্ধারিত সিলেবাসের বাইরে গিয়ে এসএসসি মানের প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এক মাস ধরে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা কোনো সমাধান না দিয়ে উল্টো অভিভাবকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি ও মানসিক চাপ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারের দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। দাবি আদায়ে সাড়া না পেয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে অভিভাবকদের নেতৃত্বে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
জিডিতে আরও উল্লেখ করা হয়, মানববন্ধন চলাকালে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সারমিন আক্তার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রশাসনিক দপ্তরে ডেকে নিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। আন্দোলন চালিয়ে গেলে ভবিষ্যতে দেশের কোনো বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে না—এমন হুমকির পাশাপাশি গুম ও খুনের ভয় দেখানোর অভিযোগও তোলা হয়েছে।
নিখোঁজ শিক্ষার্থীর মা কাকন কর্মকার জানান, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৬টার দিকে তিনি ছেলের কক্ষে গিয়ে তাকে দেখতে পাননি। তার আশঙ্কা, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভয়ভীতির কারণে অথবা অভিভাবকদের আন্দোলন থেকে সরে যেতে চাপ সৃষ্টির উদ্দেশ্যে তার সন্তানসহ অন্য কোনো শিক্ষার্থীকে আটকে রাখা বা গুম করে রাখা হতে পারে।
এ অবস্থায় সন্তানের সন্ধান দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানিয়ে তিনি পটুয়াখালী সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

- বিজ্ঞাপন -

এবিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তবে স্কুল ছাত্রকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

- Google -

আরও পড়ুন

Back to top button