সাগরপাড়ের বালুচরে সবুজ স্বপ্ন, আগাম তরমুজে হাসি ফিরেছে চাষিদের মুখে

উপকূলীয় অঞ্চলে আগাম তরমুজ চাষে ভালো ফলন পেয়ে খুশি চাষিরা। একই সঙ্গে অনাবাদী বালুচর জমি আবাদে আসায় কৃষি উৎপাদনও বাড়ছে। ইতোমধ্যে কুয়াকাটার বিভিন্ন এলাকায় খেতের তরমুজ বাজারজাতের উপযোগী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয় চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগর তীরবর্তী কুয়াকাটার জাহাজমারা, মৌডুবি ও আশপাশের বালুচর এলাকা দীর্ঘদিন পতিত পড়ে ছিল। বিচ্ছিন্নভাবে তরমুজের আবাদ হলেও গত তিন বছর ধরে পরিকল্পিতভাবে আগাম তরমুজের চাষ শুরু হয়। এতে এসব এলাকার চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
কুয়াকাটার চাষি রান মিয়া জানান, সাধারণত আমন ধান কাটার পর জানুয়ারি মাসে তরমুজের আবাদ শুরু হয় এবং এপ্রিল মাসে ফলন আসে। তবে উপকূলীয় সাগরপাড়ের জাহাজমারা, মৌডুবি ও কুয়াকাটা এলাকায় ডিসেম্বরে আগাম তরমুজের আবাদ শুরু হওয়ায় ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি থেকেই তরমুজ বাজারে আসছে।
জাহাজমারা এলাকার তরমুজ চাষি মনজু পেধা (৪৮) বলেন,এই চরাঞ্চলের জমি আগে বহু বছর অনাবাদী পড়ে থাকত। তিন বছর ধরে শীত মৌসুমে আমরা তরমুজ চাষ করছি। এ বছর তিন বিঘা জমিতে আবাদ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে, দামও ভালো পাব আশা করি। সব খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকবে।তরমুজ চাষে প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। কিন্তু সাগরপাড়ে চারদিকে নোনা পানি। তাই খেতের পাশে বড় কুয়া খনন করে মিঠা পানি জমিয়ে সেচ দিচ্ছি। মিঠা পানির সংকট আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা।

- বিজ্ঞাপন -

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিসার আরাফাত হোসেন বলেন,উপকূলীয় বালুচর এলাকায় আগাম তরমুজ চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক চাষপদ্ধতি অনুসরণ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। মিঠা পানির সংকট একটি বড় চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি সমাধানে সরকারি পর্যায়ে জলাধার ও সেচ সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন,কৃষি বিভাগ থেকে চাষিদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। আগাম তরমুজ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে উপকূলের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কাউছার হামিদ বলেন,উপকূলীয় অনাবাদী বালুচর এলাকায় আগাম তরমুজ চাষ একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। এতে একদিকে পতিত জমি চাষের আওতায় আসছে, অন্যদিকে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কৃষিবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে এসব চরাঞ্চলে আধুনিক কৃষি সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন,মিঠা পানির সংকট উপকূলীয় কৃষির একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা সমাধানে জলাধার সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষকদের সহায়তা দেওয়া হবে। আগাম তরমুজ চাষ সম্প্রসারণ করা গেলে কলাপাড়ার কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
চাষিরা আশা করছেন, সরকারি সহায়তায় মিঠা পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে উপকূলের অনাবাদী বালুচর এলাকায় আগাম তরমুজ চাষ আরও বিস্তৃত হবে এবং কৃষকদের আয় বাড়বে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

- Google -

আরও পড়ুন

Back to top button