কুসুম গরম পানি খাওয়ার উপকারিতা

ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস পানি পান করা বহুদিনের পরিচিত অভ্যাস হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আলোচনায় বারবার উঠে আসছে খালি পেটে কুসুম গরম পানির কথা। কেন সাধারণ পানির বদলে কুসুম গরম পানি? চিকিৎসকদের মতে, এই ছোট অভ্যাসের মধ্যেই লুকিয়ে আছে শরীর ও মনের জন্য বড় পরিবর্তনের চাবিকাঠি।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কুসুম গরম পানি পান শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয় বরং সঠিকভাবে গ্রহণ করলে এটি শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তোলে। ন্যাশনাল সেন্টার ফর বায়োটেকনোলজি ইনফরমেশন–এ প্রকাশিত একাধিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়মিত কুসুম গরম পানি হজমশক্তি বাড়াতে, রক্ত সঞ্চালন উন্নত করতে এবং সামগ্রিক সুস্থতায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
হজমশক্তি বাড়ায়, কমায় অতিরিক্ত মেদ
চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদদের মতে, সকালে খালি পেটে কুসুম গরম পানি পান করলে শরীরের মেটাবলিজম সক্রিয় হয়। ফলে খাবার দ্রুত ও সহজে হজম হয় এবং অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকি কমতে শুরু করে। যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান, তাদের জন্য এই অভ্যাস হতে পারে একটি সহজ সহায়ক পথ।
কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে গ্যাস, প্রাকৃতিক সমাধান
কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফাঁপা, গ্যাস বা অম্বলের সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য কুসুম গরম পানি অনেক সময় প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে। সকালে খালি পেটে এই পানি অন্ত্রকে নরম ও সক্রিয় করে তোলে, ফলে মলত্যাগ স্বাভাবিক হয় এবং পেটের অস্বস্তি কমে আসে।
রক্ত সঞ্চালন ও ব্যথা উপশমে সহায়ক
নিয়মিত কুসুম গরম পানি পান রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন ও পুষ্টির সরবরাহ বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের ব্যথা, জয়েন্টের অস্বস্তি কিংবা মাসিকের সময় পেট ও কোমরের ব্যথা কমাতেও আরাম দিতে পারে।
সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টে স্বস্তি
ঠান্ডাজনিত সমস্যা, নাক বন্ধ থাকা বা বুক ভারী লাগার সময় কুসুম গরম পানি শ্বাসনালীর জমে থাকা শ্লেষ্মা পাতলা করতে সহায়তা করে। এতে শ্বাস নিতে স্বস্তি আসে এবং সর্দি-কাশির অস্বস্তি কিছুটা হলেও কমে।
টক্সিন বের করে শরীর পরিষ্কার করে
চিকিৎসকদের ভাষ্য, কুসুম গরম পানি শরীরের ভেতরে জমে থাকা ক্ষতিকর উপাদান বা টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে। ঘাম ও প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর প্রাকৃতিকভাবে ডিটক্স প্রক্রিয়ায় যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বক, চুল ও মানসিক স্বাস্থ্যে প্রভাব
এই অভ্যাসের প্রভাব ত্বকেও দেখা যায়। নিয়মিত কুসুম গরম পানি পান করলে ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেটেড থাকে, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং ত্বকের কোষে পুষ্টি পৌঁছাতে সুবিধা হয়। ফলে ত্বক তুলনামূলকভাবে উজ্জ্বল থাকে, বয়সের ছাপ বা নিস্তেজভাব দেরিতে দেখা দেয়। অনেকের ক্ষেত্রে মানসিক চাপ, অনিদ্রা কিংবা ব্রণের সমস্যাও ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।




আপনার মন্তব্য লিখুন