নুরের প্রতিদ্বন্দ্বী হাসান মামুনের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ গণঅধিকার পরিষদের

পটুয়াখালী–৩ (গলাচিপা–দশমিনা) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা মো. হাসান মামুনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রোববার (১৮ জানুয়ারী) পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন একই আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম।

- বিজ্ঞাপন -

অভিযোগে বলা হয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ও প্রকাশ্যস্থানে নির্বাচনের ফলাফল আগাম ঘোষণা করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন। তিনি তার বক্তব্যে কে প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় হবেন তা প্রকাশ্যে উল্লেখ করছেন। এ ধরনের বক্তব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি, ২০০৮-এর ধারা ১৮ (শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নকারী বক্তব্য নিষিদ্ধ) এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৯০বি অনুযায়ী নির্বাচনী অপরাধ।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, হাসান মামুনের সমর্থকরা সাধারণ ভোটারদের ধর্মগ্রন্থকে সাক্ষী রেখে শপথ গ্রহণে বাধ্য করছেন। এটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধি, ২০০৮-এর ধারা ৫ ও ৭ (ধর্মীয় অনুভূতি ব্যবহার ও ভোটার প্রভাবিতকরণ নিষিদ্ধ) এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ৭৩ ও ৭৯ অনুযায়ী অসদাচরণ ও অবৈধ প্রভাব বিস্তারের শামিল।

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হয়ে উঠেছে। পটুয়াখালী–৩ আসনে বিএনপির সমর্থন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ডাকসুর সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। একই সঙ্গে নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির উচ্চতর পরিষদ সদস্য কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিমকেও এ আসনে প্রার্থী করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মো. হাসান মামুন দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং তিনি দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।

- বিজ্ঞাপন -

অভিযোগকারী কৃষিবিদ মো. শহিদুল ইসলাম ফাহিম জানান, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুন ও তার অনুসারীরা ধারাবাহিকভাবে নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন, যা অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতসহ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ধর্মীয় শপথ ও উসকানিমূলক কার্যক্রম বন্ধে প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং পটুয়াখালী–৩ আসনে বিশেষ নজরদারি জোরদারের দাবি জানানো হয়েছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

- Google -

আরও পড়ুন

Back to top button