পটুয়াখালী লতিফ স্কুলের ওয়াজ মাহফিলে আওয়ামীপন্থী শিক্ষক মনজুরুল আহসান ও মাহমুদুল ওসমান গনি’র বাধা প্রদানের অভিযোগ

পটুয়াখালীর লতিফ স্কুল মাঠে মঙ্গলবার রাতে আয়োজিত ওয়াজ মাহফিলকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। মাহফিলে দুই শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাতে লতিফ স্কুলে ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করা হয়। মাহফিলের প্রধান অতিথি হিসেবে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত কাফিল উদ্দিন সরকারকে দাওয়াত প্রদান করেন দুই শিক্ষক। পটুয়াখালীর প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এ বিষয়টি গোয়েন্দা সূত্রে তথ্যপ্রাপ্ত হয়ে মাহফিলের অনুমতি প্রদান করেননি এবং আজকে দুপুর পর্যন্ত মাহফিলের অনুমতি স্থগিত রাখেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় প্রধান অতিথি কাফিল উদ্দিন কে বাদ দিয়ে মাহফিলের অনুমতির পায়।
কিন্তু উল্লেখিত দুইজন শিক্ষক, তথ্যসূত্র মতে যারা বিগত আওয়ামী লীগের সময় ফ্যাসিস্টের চিহ্নিত দোসর ছিল তারা মাহফিলে অসহযোগিতা প্রদান করেন এবং মাহফিলের অনুমতি প্রদানে সামাজিক নেতৃবৃন্দকে সহযোগিতা করায় তাদের প্রতি কটাক্ষ ও বিদ্রূপ মন্তব্য করেন। এ নিয়ে মাহফিল চলাকালীন সময়ে স্কুল ক্যাম্পাসে সাময়িক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা অভিযুক্ত শিক্ষকদের কাছে মাহফিলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির কারণ জানতে চাইলে তারা কোনো সুস্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে। অভিযোগে বলা হয়, উক্ত দুই শিক্ষক অতীতেও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। বিশেষ করে মনজুরুল আহসানের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার একাধিক অভিযোগসহ নানা দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন, আবার স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, ওই দুই শিক্ষক বিগত আওয়ামী আমলে রাজনৈতিক পরিচয়ে বিভিন্ন সময় ধর্মীয় কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছেন। তাদের মতে, বিষয়টি ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবেরও বহিঃপ্রকাশ হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় কাফিল উদ্দিন সরকারকে বাদ দিয়ে, মাহফিল আয়োজনের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।




আপনার মন্তব্য লিখুন