বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ সংকট, চরম ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

 

- বিজ্ঞাপন -

আবদুল্লাহ আল শাহিদ খান, ববি প্রতিনিধি।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি )শ্রেণিকক্ষ, ল্যাব ও কম্পিউটার রুমের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে ব্যাহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতা, সেশন জটের মতো সমস্যা ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পাচটা অনুষদের অধিনে ২৫টি বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য যেখানে ৭৬ টি ক্লাস রুম প্রয়োজন, সেখানে রয়েছে মাত্র দুটি একাডেমিক ভবনে ৩৬ টির মতো ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি ও কম্পিউটার রুম বিদ্যমান। শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বিভাগের তুলনায় এই সংখ্যা নিতান্তই অপ্রতুল। ফলে কর্তৃপক্ষকে একই শ্রেণিকক্ষে একাধিক বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিতে বাধ্য হতে হচ্ছে।

আরো দেখা যায়, অনেক ক্লাসরুমে সাউন্ডস্পিকার না থাকায় শিক্ষকের কণ্ঠস্বর পেছনের সারির শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষের অভাবে অনেক বিভাগে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনে, বাড়ছে সেশনজটের মতো সমস্যা। নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় পিছিয়ে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা, বাড়ছে তাদের ভোগান্তি।
নবীন সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থীদের এখন ঠিকানা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি। নিজস্ব শ্রেণিকক্ষের অভাবে সেখানেই চলছে তাদের পাঠদান। এটি বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো সংকটের একটি জ্বলন্ত উদাহরণ।
শিক্ষার্থীরা জানায়, একাডেমিক ভবনে ক্লাসরুমের অভাবে লাইব্রেরিতে ক্লাস করতে তাদের নানা অসুবিধা হচ্ছে, একইসাথে লাইব্রেরির স্বাভাবিক কার্যক্রমেও ব্যাঘাত ঘটছে।
বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় পর্যাপ্ত ল্যাবের অভাব রয়েছে। এর কারণে একই ল্যাব বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে সময়মতো ল্যাবের কাজ করতে পারছেন না তারা এবং সেমিস্টারে পিছিয়ে পড়ছেন। কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা পর্যাপ্ত কম্পিউটার রুমের অভাবের কথা উল্লেখ করে ব্যবহারিক ক্লাসে সুযোগের সীমাবদ্ধতার কথা জানান।

- বিজ্ঞাপন -

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, পর্যাপ্ত ক্লাসরুমের অভাবে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। একটি ক্লাসরুমেই কখনো কোনো ব্যাচের পরীক্ষা চলে, আবার কখনো অন্য ব্যাচের ক্লাস হয়। ফলে তাদের নিয়মিত ক্লাস করতে অসুবিধা হচ্ছে। এছাড়া আমাদের ক্লাস রুমে সাউন্ডসিস্টম নাই , ব্যবহারিক সাংবাদিকতার জন্য পর্যাপ্ত কম্পিউটার রুমের অভাবের কথাও জানান ।

পদার্থবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী ফকরুল ইসলাম বলেন,, শুধু শিক্ষার্থীরাই ভোক্তভোগী না শিক্ষকরাও ভোক্তভোগী। ক্লাস রুম যদি দুইটা বা তিনটি হতো ভালো হতো।

লোকপ্রশাসন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় আমরা অনেক পিছিয়ে পড়েছি। অনেক সময় ক্লাস বাতিল করতে হয়। ফলে সিলেবাস শেষ করা নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি।
সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ আবির হোসেন বলেন, আমাদের নিজস্ব কোনো ক্লাসরুম নেই। লাইব্রেরিতে বসে ক্লাস করতে ভালো লাগে না।

এই বিষয়ে ইংরেজ বিভাগের শিক্ষক শ্যামলীমা শহিদ খান বলেন,, আফিসিয়াল ক্লাস শুরু হওয়া সময় ১০টা থেকে কিন্তু ক্লাস সংকটের কারনে বেশি ভাগ সময় ৮ টায় ক্লাস নিতে হচ্ছে যার কারনে অনেক চাপ নিয়ে তারাতারি করে ক্যাম্পাসে আসতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, একসাথে ছয়টা ব্যাচ ক্লাস করেন একব্যাচের ক্লাস সময় তখন অন্য ব্যাচের ক্লাস সময় মিলে যায় তাই শিক্ষার্থীদের সঠিক সময় ক্লাস নেওয়া যায় না।

সাবেক শিক্ষার্থীরা জানায়, তারাও এই সংকটের শিকার হয়েছেন। এই জন্য তাদের নিয়মিত ক্লাস হইতো না অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করে বের হতে অনেক সময় লাগেছে ।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক উপাচার্য জানান, “আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ও বিভাগের তুলনায় অবকাঠামো এখনো পর্যাপ্ত নয়। নতুন নতুন বিভাগ খোলা হলেও সেই অনুপাতে একাডেমিক ভবন নির্মাণে কিছুটা সময় লাগছে। শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির বিষয়টি আমি নিজে তদারকি করছি এবং তাদের এই কষ্ট আমাদের ব্যথিত করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন আরও প্রকল্পের বরাদ্দ পেতে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।”

এই পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা দ্রুত অবকাঠামো সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। পর্যাপ্ত ক্লাসরুম ও ল্যাবরেটরির অভাবে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া ও সেশন জট পড়ছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

- Google -

আরও পড়ুন

Back to top button