জন্ম–মৃত্যু নিবন্ধনে নভেম্বরে দেশের সেরা পটুয়াখালী জেলা

পটুয়াখালীঃ জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে সারাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে নভেম্বর ২০২৫ মাসে প্রথম স্থান অধিকার করেছে পটুয়াখালী জেলা। জন্ম ও মৃত্যু—উভয় নিবন্ধনের মূল্যায়িত হার বিবেচনায় সমন্বিত গড় ১১২.৯ শতাংশ অর্জন করে জেলাটি দেশের সেরা অবস্থানে পৌঁছেছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নভেম্বর ২০২৫ মাসে পটুয়াখালী জেলায় এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন জন্ম নিবন্ধনের সংখ্যা ছিল ২,০৯২। ওই মাসে সম্ভাব্য জন্মের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২,৩১১টি, যার বিপরীতে জন্ম নিবন্ধনের অর্জন হার দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশ। একই সময়ে সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭৩০, যার বিপরীতে মৃত্যু নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে ১,০২১টি—অর্জন হার ১৪০ শতাংশ। এই দুই সূচকের গড় হিসেবে পটুয়াখালীর সমন্বিত অর্জন দাঁড়ায় ১১২.৯ শতাংশ, যা নভেম্বর মাসে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ।
বরিশাল বিভাগের বাকি দুই জেলা—ভোলা ও বরগুনা—অনুর্ধ্ব মূল্যায়ন অনুযায়ী যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। ভোলায় নভেম্বর মাসে জন্ম নিবন্ধনের হার ছিল ৯৭ শতাংশ, মৃত্যু নিবন্ধনে ১১০ শতাংশ, সম্মিলিত গড় ১০৩.২ শতাংশ। বরগুনা অর্জন করেছে জন্মে ৯৩ শতাংশ ও মৃত্যুর নিবন্ধনে ১০৫ শতাংশ, সমন্বিত গড় ৯৯ শতাংশ।
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক জুয়েল রানা জানান, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনে পটুয়াখালীর এ ধারাবাহিক সাফল্য সম্মিলিত টিমওয়ার্কের ফল। তিনি বলেন, “জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পটুয়াখালী জেলা এখন দেশের মডেল। আমরা মাঠপর্যায়ে ইউনিয়ন পরিষদ, স্বাস্থ্য বিভাগ, আঞ্চলিক পরিসংখ্যান অফিস ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছি। নিয়মিত মনিটরিং, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত হওয়ায় এই সফলতা এসেছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে আমরা আরও উন্নত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “মৃত্যু নিবন্ধনের হার ১৪০ শতাংশে পৌঁছানো প্রমাণ করে যে পটুয়াখালী জেলা তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও নিবন্ধন কার্যক্রমে দেশের সেরা সক্ষমতা প্রদর্শন করছে। জন্ম নিবন্ধনেও আমরা টেকসই উন্নয়নের পথে রয়েছি।”
বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু নভেম্বর নয়—২০২৪ সালজুড়েও জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের গড় অর্জনে পটুয়াখালী সারাদেশে তৃতীয় স্থান এবং বরিশাল বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান দখল করেছিল। নিয়মিতভাবে বছরের অধিকাংশ মাসেই জেলাটি সেরা দশের তালিকায় অবস্থান করেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেম, নিবন্ধন ব্যবস্থাকে শতভাগের কাছাকাছি নিতে মাঠপর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা, সেবা সহজীকরণ এবং দ্রুত সাড়া প্রদান আরও শক্তিশালী করা হবে। কর্মকর্তারা আশা করছেন, বর্তমান কর্মধারা অব্যাহত থাকলে পটুয়াখালী ভবিষ্যতেও দেশের শীর্ষস্থান ধরে রাখবে।




আপনার মন্তব্য লিখুন