বাউফলে আ.লীগের পলাতক শাহজাদা বিএনপিতে যোগের গুঞ্জন

বাউফল উপজেলার নওমালা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) পলাতক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. শাহজাদা হাওলাদারের বিএনপিতে যোগদানের গুঞ্জনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা- সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, চায়ের দোকান, রাজনৈতিক কার্যালয় ও সাধারণ মানুষের আড্ডায় চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মো. শাহজাদা হাওলাদার বাউফল উপজেলা শ্রমিক লীগের একাংশের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করে আসছেন। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা এই নেতার হঠাৎ করে বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর খবরে নওমালা ইউনিয়নের রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
নওমালা ইউনিয়নের একাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সম্প্রতি চেয়ারম্যান শাহজাদাকে বিএনপির কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ করতে দেখা গেছে। এমনকি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নওমালায় বিএনপির একটি কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দিতে পারেন—এমন আলোচনা চলছে।
এক স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, “শাহজাদা ভাই দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন। হঠাৎ করে তার বিএনপির সঙ্গে যোগাযোগ আমাদের জন্য বিস্ময়কর। বিষয়টি সত্য হলে তা দলের জন্য বড় ধাক্কা হবে। দলের দুঃসময়ে এ ধরনের সিদ্ধান্তকে অনেকেই বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে দেখবেন।
অন্যদিকে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলটি স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই আওয়ামী লীগের এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা ও বর্তমানে পলাতক ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাদা হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নওমালা ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. শাহজাদা হাওলাদার বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে একজন আলোচিত ব্যক্তিত্ব। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিরোধ ও সংঘর্ষের ঘটনায় তিনি সংবাদ শিরোনামে এসেছেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় স্থানীয় পর্যায়ে তার উল্লেখযোগ্য প্রভাব ছিল।
এ বিষয়ে মো. শাহজাদা হাওলাদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “যা শুনেছেন তা সত্য। তবে এটা নিয়ে লেখালেখির দরকার নেই। আমি বিএনপিতে যোগ দিচ্ছি—এটা সত্য। আগামীকাল বাড়িতে আসছি।
স্থানীয় প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তারা বলেন, “যারা অতীতে সহিংসতা, চাঁদাবাজি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল, তাদের গতিবিধি নিবিড়ভাবে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কেউ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




আপনার মন্তব্য লিখুন