পটুয়াখালী-৩ : দুই প্রার্থীর প্রচারণা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা অবনতির আশঙ্কা, সেনাবাহিনী মোতায়েন

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই চরকাজল ইউনিয়নের চরশিবা এলাকায় সেনাবাহিনী কাজ করছে। একই সঙ্গে ওই এলাকায় সভা-সমাবেশ সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

- বিজ্ঞাপন -

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালী-৩ (আসন নং–১১৩) সংসদীয় আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি মো. নুরুল হক নুর (ট্রাক প্রতীক) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাসান মামুন (ঘোড়া প্রতীক)-এর নির্বাচনী সফরসূচি পর্যালোচনা করে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা (ডিএসবি) একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ও চরবিশ্বাস ইউনিয়নে একই সময় ও কাছাকাছি স্থানে দুই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এতে সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং যে কোনো সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়। এছাড়া প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ৩১ জানুয়ারির পরবর্তী আরও তিনটি তারিখেও একই স্থান বা কাছাকাছি স্থানে এবং একই বা কাছাকাছি সময়ে দুই প্রার্থী কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। এসব কর্মসূচি রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ছাড়াই সমন্বয়হীনভাবে ঘোষিত হয়েছে, যা “জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫”-এর বিধি-৬ এর উপ-বিধি (খ)-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসারের পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে কর্মসূচি সমন্বয় করে ভিন্ন ভিন্ন তারিখ, স্থান ও সময়ে প্রচারণা চালানোর অনুরোধ জানানো হলেও উভয় প্রার্থী তা অগ্রাহ্য করেন। ফলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় আচরণ বিধিমালা অনুসরণ করে যথাযথ প্রক্রিয়ায় নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসমাবেশের সূচি দাখিল ও অনুমোদন গ্রহণের জন্য উভয় প্রার্থীকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। নির্দেশনা অমান্য করলে বিধি অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ জিল্লুর রহমান বলেন,

এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহামুদুল হাসান বলেন, দুই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিজিবি ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তারা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং কোথাও জড়ো হতে দেওয়া হচ্ছে না।

- বিজ্ঞাপন -

উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন ধরে পটুয়াখালী-৩ আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী নুরুল হক নুর ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে (২৬ জানুয়ারি) দশমিনার চর বোরহান ও ২৭ জানুয়ারি গলাচিপা উপজেলার বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নে দুই প্রার্থীর নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও নির্বাচনী অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে দুইপক্ষ একে অপরকে অভিযুক্ত করেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

- Google -

আরও পড়ুন

Back to top button