পটুয়াখালী ইপিজেড নির্মাণে পোড়ামাটির ইট, আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ, পরিবেশবিদদের উদ্বেগ

পটুয়াখালীতে নির্মাণাধীন আধুনিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড) নির্মাণে পরিবেশবিধ্বংসী পোড়ামাটির ইট ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অথচ আইন অনুযায়ী সরকারি প্রকল্পে ইটের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্লক ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ইপিজেড এলাকার সীমানা প্রাচীরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে বিপুল পরিমাণ পোড়ামাটির ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে করে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন উপেক্ষার পাশাপাশি উপকূলীয় অঞ্চলে নতুন করে ইটভাটার বিস্তারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ (সংশোধিত) আইন–২০১৯ অনুযায়ী সরকারি নির্মাণকাজে পোড়ামাটির ইট ব্যবহার নিষিদ্ধ। তবে সেই আইন উপেক্ষা করেই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন এ ইপিজেড প্রকল্পে ইট ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরিবেশবিদদের মতে, পোড়ামাটির ইট ব্যবহারে মাটি, বায়ু ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে একটি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন ইপিজেডে পরিবেশবিরোধী নির্মাণ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, বর্তমানে নির্মাণ খাতে অটো ব্রিকস ও ব্লক ইট সহজলভ্য হওয়ায় পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এসব আধুনিক ইট উৎপাদনে কাঠ বা জ্বালানি পোড়ানোর প্রয়োজন হয় না, ফলে বন উজাড় ও বায়ুদূষণের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। অন্যদিকে কাঠে পোড়া ইট পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি। এতে বিপুল পরিমাণ কার্বন ডাই-অক্সাইড, ধোঁয়া ও ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয়, যা মানুষের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি কৃষি, মাটি ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
পরিবেশ বান্ধব পর্যটন সংরক্ষণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক বলেন,
“সরকারি প্রকল্পে ইট ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। ইপিজেডের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যদি পরিবেশ আইন মানা না হয়, তাহলে তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”
এ বিষয়ে পটুয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক লোভানা জামিল বলেন,
“সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। বিষয়টি আমরা গুরুত্বসহকারে দেখছি।”
এ বিষয়ে ইপিজেড প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম কথা বলতে রাজি হননি। তবে মুঠোফোনে উপ-প্রকল্প পরিচালক শাহিদুল ইসলাম বলেন,
“ব্লকের সংকট থাকায় আপাতত ইট ব্যবহার করে নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। তবে দেশের অন্যান্য ইপিজেডে সম্পূর্ণ ব্লক দিয়েই নির্মাণকাজ হচ্ছে।”
উল্লেখ্য, ঢাকা–কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে পটুয়াখালীর আউলিয়াপুর এলাকায় প্রায় ৪১০ একর জমির ওপর দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ ইপিজেড গড়ে উঠছে। সম্পূর্ণ দেশীয় অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার চারশ’ তেতাল্লিশ কোটি টাকা। ২০২৬ সালে প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।




আপনার মন্তব্য লিখুন