দুমকিতে চুরির চেষ্টাকালে চোর আটক, থানা ঘেরাও করে ব্যবসায়ীদের বিক্ষোভ

দুমকি (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার থানা ব্রিজ এলাকায় চুরির চেষ্টাকালে এক কিশোরকে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর তীব্র উত্তেজনায় পরিস্থিতি একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অতিরিক্ত ফোর্সের সহায়তায় আটক কিশোরকে থানায় নিয়ে যায়। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন আগে একই এলাকায় এক রাতে সাতটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকেই ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতে থানা ব্রিজ সংলগ্ন একটি মুদি দোকানের টিনের বেড়া কেটে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে এক কিশোর। পাশের দোকানের এক ব্যবসায়ী শব্দ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। পরে আশপাশের লোকজন বুঝতে পারেন, দোকানের ভেতরে কেউ অবস্থান করছে। একপর্যায়ে স্থানীয়রা বন্ধ দোকানের তালা ভেঙে ভেতর থেকে তাকে আটক করেন।
আটক কিশোরের নাম আকাশ (১৩)। তার বাড়ি দুমকি উপজেলার বাদশাবাড়ি গ্রামের হাওলাদার বাড়িতে। তার বাবার নাম আফজাল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ঘটনার সময় তার সঙ্গে নাহিদ নামে আরেকজন ছিল। নাহিদের বাবার নাম জামাল, তিনি পেশায় ট্রলারচালক। তাদের বাড়ি লাউকাঠী আবাসন এলাকায়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সহস্রাধিক ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পূর্বের একাধিক চুরির ঘটনায় ক্ষুব্ধ জনতা আটক কিশোরকে গণপিটুনি দেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত দুজন সংবাদকর্মী, ছাত্রদলের এক নেতাসহ কয়েকজন সচেতন ব্যক্তি তাকে জনরোষ থেকে রক্ষা করেন এবং পুলিশে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে আসে। দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে পুলিশ কিশোরটিকে থানায় নিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা দুমকি থানা ফটকের সামনে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে থানার মূল ফটক বন্ধ করে মাইকিংয়ের মাধ্যমে ওসি উপস্থিত জনতাকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ওসি সেলিম উদ্দিন বলেন, “আটক কিশোরকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। থানা ব্রিজ এলাকায় পূর্বের চুরির ঘটনার সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার কথা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, একই এলাকায় বারবার চুরির ঘটনায় তারা আতঙ্কিত ও অতিষ্ঠ। তাদের দাবি, এর পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্র রয়েছে। দ্রুত ওই চক্রকে শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না নিলে ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়বে।
এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীরা রাতের নিরাপত্তা জোরদার ও পুলিশের নিয়মিত টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।

- বিজ্ঞাপন -

আপনার মন্তব্য লিখুন

- Google -

আরও পড়ুন

Back to top button