থাইরয়েড ক্যানসারের ৭টি প্রাথমিক লক্ষণ, অবহেলা করলেই বিপদ!

থাইরয়েড ক্যানসার বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে নারী ও তরুণদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ তুলনামূলক বেশি দেখা যাচ্ছে। যদিও থাইরয়েড ক্যানসার অন্যতম নিয়ন্ত্রণযোগ্য ক্যানসার এবং সময়মতো শনাক্ত হলে সুস্থ হওয়ার হারও বেশি, তবে প্রাথমিক লক্ষণগুলো অনেক সময় ব্যথাহীন ও অস্পষ্ট হওয়ায় রোগীরা সেগুলো উপেক্ষা করেন। এতে চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয় এবং জটিলতা বাড়ে বলে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বৈশ্বিক ক্যানসার ডেটা অনুযায়ী, গত দুই দশকে থাইরয়েড ক্যানসারের হার ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ভারতের ক্ষেত্রেও এ প্রবণতা লক্ষণীয়, যেখানে দক্ষিণ ভারতের কিছু অঞ্চলে তুলনামূলকভাবে বেশি রোগী শনাক্ত হচ্ছে। তবে এ রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা এখনও পর্যাপ্ত নয়।
ম্যাক্স সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, পাটপর্গঞ্জের সিনিয়র ডিরেক্টর (সার্জিকাল অনকোলজি) ডা. নিতিন লীখার বলেন, থাইরয়েড একটি ছোট, প্রজাপতির আকৃতির গ্রন্থি, যা গলার সামনে অবস্থিত। এটি শরীরের বিপাক, হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু প্রাথমিক পর্যায়ে থাইরয়েড ক্যানসার সাধারণত ব্যথাহীন হওয়ায় অনেকেই এর লক্ষণ বুঝতে পারেন না।
যে ৭টি লক্ষণ কখনোই উপেক্ষা করা উচিত নয়
১. গলায় ব্যথাহীন গাঁট বা ফোলা
গলায় নতুন কোনো গাঁট বা ফোলা থাইরয়েড ক্যানসারের সবচেয়ে সাধারণ প্রাথমিক লক্ষণ। গাঁটটি শক্ত হলে বা আকার বাড়তে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২. দীর্ঘস্থায়ী কণ্ঠস্বর পরিবর্তন
কণ্ঠ ভেঙে যাওয়া বা স্বর পরিবর্তন যদি কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তবে তা সতর্ক সংকেত হতে পারে। টিউমার কণ্ঠস্বর নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুকে চাপ দিলে এমনটি ঘটে।
৩. গিলে খাওয়ার সমস্যা
থাইরয়েড বড় হয়ে গেলে বা টিউমার খাদ্যনালীতে চাপ দিলে গিলে খাওয়ার সময় অস্বস্তি বা কিছু আটকে থাকার অনুভূতি হতে পারে।
৪. শ্বাসকষ্ট বা গলার আঁটসাঁট ভাব
কিছু ক্ষেত্রে টিউমার শ্বাসনালীতে চাপ সৃষ্টি করে, ফলে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বিশেষ করে শোয়ার সময়।
৫. গলা বা কানে ছড়িয়ে পড়া ব্যথা
সংক্রমণ ছাড়াই যদি গলা ব্যথা থাকে এবং তা কানের দিকে ছড়িয়ে পড়ে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন।
৬. গলার লিম্ফ নোড ফোলা
ব্যথাহীন ও শক্ত লিম্ফ নোড, যা সময়ের সঙ্গে কমছে না, ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ার ইঙ্গিত দিতে পারে।
৭. দীর্ঘস্থায়ী অজানা কাশি
অ্যালার্জি বা সংক্রমণ ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে শুকনো কাশি থাকলে সেটিও থাইরয়েড ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
প্রাথমিক শনাক্তকরণই সুরক্ষার চাবিকাঠি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উপসর্গের একটি বা একাধিক থাকলেই যে ক্যানসার হবে—তা নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে উপসর্গ থাকলে তা উপেক্ষা না করে পরীক্ষা করানোই নিরাপদ। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে থাইরয়েড ক্যানসারের চিকিৎসা তুলনামূলক সহজ এবং সফলতার হারও বেশি।
রোগনির্ণয়ের জন্য সাধারণত গলার আল্ট্রাসাউন্ড, রক্ত পরীক্ষা এবং ফাইন-নিডল অ্যাস্পিরেশন বায়োপসি করা হয়। চিকিৎসায় সার্জারি, রেডিওএক্টিভ আয়োডিন থেরাপি কিংবা প্রয়োজন অনুযায়ী টার্গেটেড থেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—গলার কোনো অস্বাভাবিক পরিবর্তন, কণ্ঠের স্থায়ী সমস্যা বা অজানা কাশি হলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়াই হতে পারে সুস্থ জীবনের প্রথম ধাপ।




আপনার মন্তব্য লিখুন