তারেকের নেতৃত্বে নতুন সরকারের যাত্রা

দেশি-বিদেশি উচ্চ পর্যায়ের অতিথিদের সামনে এক আড়ম্বরপূর্ণ ইতিহাস সৃষ্টিকারী অনুষ্ঠানে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী রাজনৈতিক দল বিএনপির প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ গ্রহণ করলেন। আর এর মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হলো জুলাই অভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নে স্বপ্নের বাংলাদেশের অভিযাত্রা।
দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নবীণ-প্রবীণের সমন্বয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভা শপথে তারুণ্যের আশাআকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে। দুই দশক পর শক্ত অবস্থান নিয়ে আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবিস্মরণীয় বিজয় পাওয়া দল বিএনপি। আর শপথ গ্রহণ করা ৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার ৪০ জনই এবার নতুন মুখ।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রৌদ্রোজ্জ্বল পরিবেশে আড়ম্ভরপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় শপথ অনুষ্ঠান। শপথ অনুষ্ঠানে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী নালিন্দা জয়াসিতা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দেশের অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস, তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান, অন্যান্য উপদেষ্টা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ, বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ, বিদেশি কূটনীতিক, প্রধান বিচারপতি, তিন বাহিনী প্রধানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধি।
মঙ্গলবার বিকেল ৪টার মধ্যেই অনুষ্ঠানস্থলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে আসেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসহ আমন্ত্রিত সকল দেশি-বিদেশি অতিথি। বিকেল ৪টা ৪ মিনিটে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অনুষ্ঠান স্থলে আসার পর জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এর পর মঞ্চে রাষ্ট্রপতির পাশে আসন গ্রহণ করেন তারেক রহমান।
পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। শপথের আগেই তিনি প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের জন্য নির্ধারিত আসনে বসার আহ্বান জানান। এর পর প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং পরে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের পৃথক পৃথকভাবে শপথমঞ্চে এসে শপথের আহ্বান জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। আর তাদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
এর আগে মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদে শপথ নেওয়ার পর সংসদীয় সভায় তারেক রহমানকে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করেন বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্যরা। এর পর রাষ্ট্রপতি তারেক রহমানকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান।
শপথ অনুষ্ঠানে প্রথমেই প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করে তাকে শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তারেক রহমান নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে প্রথমে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং তারপর গোপনীয়তার শপথ নেন। সব শেষে তিনি শপথের নথিতে স্বাক্ষর করেন। পরে রাষ্ট্রপতিও ওই নথিতে স্বাক্ষর করেন। পরে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
এর পর মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পাওয়া নেতাদের নাম ঘোষণা করে শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব। এ সময় তারা শপথ মঞ্চে গিয়ে দাঁড়ালে শপথ এবং গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে তারা শপথের নথিতে স্বাক্ষর করেন। তাদের পর রাষ্ট্রপতিও এই নথিতে স্বাক্ষর করেন।
শপথ নেওয়া নতুন ২৫ মন্ত্রী হলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড. খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন (টেকনোক্র্যাট), আফরোজা খানম (রিতা), মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
মন্ত্রীদের শপথের পর প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করে তাদের শপথমঞ্চে ইসার আহ্বান মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। তাদের শপথ এবং গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। পরে তারা শপথের নথিতে স্বাক্ষর করেন। তাদের পর রাষ্ট্রপতিও এই নথিতে স্বাক্ষর করেন।
নতুন ২৪ প্রতিমন্ত্রী হলেন- এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজীব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি), ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
শপথ অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর দেশি-বিদেশি অতিথিরা সামনে এগিয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং নতুন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গে করমর্দন করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। আবার নতুন মন্ত্রীরাও নিজেদের মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরাও এগিয়ে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিপরিষদের সভার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গী হলেন ২৫ জন মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর তারেক তার নতুন সরকার সাজিয়েছেন ৪০ জন নতুন মুখ নিয়ে। তাদের মধ্যে বিএনপির জোটের শরিক দলের দুই নেতাও রয়েছেন। অনেকেই প্রথমবার এমপি হয়েই সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেয়ে গেছেন। তারেক রহমান নিজেও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য এবং প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।
শপথ অনুষ্ঠানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আসেন মেয়ে দীনা আফরোজকে সঙ্গে নিয়ে। উপদেষ্টাদের মধ্যে ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চৌধুরী রফিকুল আববারকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা যায়।
শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে দুপুরের আগে থেকে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ থেকে বিএনপি ও এর  বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও নানান শ্রেণিপেশার মানুষ জাতীয় সংসদ ভবন সংলগ্ন মানিক মিয়া এভিনিউতে জড়ো হন। একপর্যায়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের স্লোগানে পুরো সংসদ এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। এ সময় দক্ষিণ প্লাজা ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তার কঠোর বলয় লক্ষ্য করা যায়। প্রবেশপথে কড়া তল্লাশি, সারিবদ্ধ ব্যারিকেড এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক উপস্থিতি-সব কিছুই জানান দিচ্ছিল রাষ্ট্রীয় গুরুত্বের এক আয়োজনে। আমন্ত্রিত অতিথিরা আমন্ত্রণপত্র দেখিয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। কূটনীতিক, উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতারা ধীরে ধীরে পূর্ণ করেন নির্ধারিত আসন। মঞ্চের সামনে সারিবদ্ধ চেয়ারগুলো নিখুঁতভাবে সাজানো। মিডিয়ার জন্য আলাদা কর্নার, ক্যামেরা সেটআপ, লাইভ সম্প্রচারের প্রস্তুতি-প্রতিটি খুঁটিনাটিতে ছিল ব্যস্ততা, তবে কোথাও বিশৃঙ্খলা নয় ছিল সুপরিকল্পিত নীরব ছন্দ।
শপথ অনুষ্ঠান শুরুর আগে থেকে শেষ হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা অগনিত মানুষের চোখে কৌতূহল, কারও চোখে প্রত্যাশা। কেউ মোবাইলে ছবি তুলছেন, কেউ আলোচনা করছেন নতুন সরকারের সম্ভাব্য অগ্রাধিকার নিয়ে। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান হলেও আবহে ছিল জনমানুষের এক অদৃশ্য অংশগ্রহণ। শপথগ্রহণকালে তারা প্রজেক্টরের বদৌলতে শপথ অনুষ্ঠানের সবই দেখতে পান।
৫০ সদস্যের মন্ত্রিসভার বড় চমক ড. খলিলুর রহমান। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ‘জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক রিপ্রেজেন্টেটিভ’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর ইজারা দেওয়া এবং প্রস্তাবিত রোহিঙ্গা কোরিডোর নিয়ে বিতর্কের মধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে তাকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। পররাষ্ট্র ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা ড. খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট কোটায় স্থান পেয়েছেন পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। এছাড়া টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন।
১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদের সদস্য ইয়াছিন এবার কুমিল্লা-৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে ওই আসনে দলের মনোনয়ন পান চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমিন উর রশিদ ইয়াছিন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। সেই সঙ্গে তিনি মনিরুল হক চৌধুরীর পক্ষে কাজ করে তাকে বিজয়ী করেন। এর প্রতিদান হিসেবে তাকে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হয়। নতুন মন্ত্রিসভায় টেকনোক্র্যাট  কোটায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক মো. আমিনুল হক হয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। আমিনুল হককে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
এদিকে নতুন মন্ত্রিসভায় বিএনপির অভিজ্ঞ ও পুরনো নেতাদের মধ্যে অনেকেরই স্থান হয়নি। তাদের মধ্যে রয়েছেন- বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তবে তাকে পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়।
এ ছাড়াও যারা মন্ত্রিত্ব পাননি তাদের মধ্যে রয়েছেন- গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান, বরকতউল্লাহ বুলু, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাসিরুদ্দিন,  চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, দলের নেতা লুৎফুজ্জামান বাবরও মন্ত্রিপরিষদের জায়গা পাননি। তারা সবাই বিএনপির প্রয়াত নেতা খালেদা জিয়ার কেবিনেটে ছিলেন।
এ ছাড়ও আলোচিত নেতাদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান, দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, জয়নাল আবদীন, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, হাবিবুন নবী খান সোহেল মন্ত্রিসভায় স্থান পায়নি। তবে বিএনপির সমমনা শরিক দলের মধ্যে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর ও বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন।
আলোচিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সদস্য মির্জা আব্বাস,  নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে মন্ত্রী করা না হলেও মন্ত্রীর মর্যাদায় উপদেষ্টা এবং বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন ও যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে।
৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিপরিষদে ৪০ জনই নতুন। এর মধ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হলেন। ২৫ জন মন্ত্রিত্ব পাওয়া ১৬ জনই নতুন, তারা আগে কখনো মন্ত্রিত্ব পালন করেননি। আর বাকি  ৯ জনের মন্ত্রি-প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে অতীতে। ২৫ পূর্ণ মন্ত্রীর মধ্যে এবারই প্রথম মন্ত্রী হয়েছেন- এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড. খলিলুর রহমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম ও শেখ রবিউল আলম।
আর অতীতে মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ৯ মন্ত্রী হলেন- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, হাফিজ উদ্দিন আহমদ, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, নিতাই রায় চৌধুরী, আসাদুল হাবিব দুলু ও আ ন ম এহছানুল হক। আর প্রতিন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়া ২৪ জনের কেউই এর আগে মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেননি, তারা সবাই নতুন।
উল্লেখ্য, দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরার ৫ দিনের মাথায় মা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মৃত্যু এবং এর পর দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তারেক রহমান। আর এর একমাস পর অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। তা তারেক রহমানের  চলার পথ কুসুমাস্তীর্ণ ছিলে না। বন্ধুর পথ অতিক্রম করেই তাকে নির্বাচনে নেতৃত্ব দিয়ে দলকে বিজয়ী করে এ পর্যন্ত আসতে হয়েছে।
বাংলাদেশে ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে দুর্নীতির অভিযোগে আটক হয়েছিলেন তারেক রহমান। এরপর ১৮ মাস কারাগারে থাকার পর ২০০৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডনে চলে যান তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন  গতবছর ২৫ ডিসেম্বর। এখন তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন সরকারের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার দায়িত্ব নিতে হবে।
৫০ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় চট্টগ্রাম বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে স্থান দেওয়া হয়। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ১০ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দু’জন আছেন। ঢাকা বিভাগ থেকে ১০ জনকে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে কম ২ জনকে নেওয়া হয় সিলেট বিভাগ থেকে। এছাড়া রাজশাহী বিভাগ থেকে ৬ জন, বরিশাল বিভাগ থেকে ৫ জন, খুলনা বিভাগ থেকে ৪ জন, ময়মনসিংহ বিভাগ থেকে ৫ জন, রংপুর বিভাগ থেকে ৪ জনকে স্থান দেওয়া হয়।

- বিজ্ঞাপন -

আপনার মন্তব্য লিখুন

- Google -

আরও পড়ুন

Back to top button