গৌরব-ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সাফল্যের ২৪ বছরে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

ছায়াঘেরা সবুজের আবরণে, নদী-হাওয়ার স্নিগ্ধ স্পর্শে গড়া পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়—দক্ষিণাঞ্চলের উচ্চশিক্ষার এক অনন্য দীপশিখা। প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠার ২৪ বছরে পদার্পণ করেছে এই বিদ্যাপীঠ, যা আধুনিক বিজ্ঞান ও গবেষণায় অবদানের মাধ্যমে দেশ-বিদেশে অর্জন করেছে স্বতন্ত্র পরিচিতি। পটুয়াখালীর প্রবেশদ্বার লেবুখালী থেকে অদূরে, দুমকির শান্ত প্রান্তরে বিস্তৃত এ ক্যাম্পাস যেন প্রকৃতি ও জ্ঞানের এক অপূর্ব মিলনভূমি। ‘দক্ষিণের অক্সফোর্ড’ নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠান কেবল ইট-কাঠের অবকাঠামো নয়; এটি ছয় ঋতুর রঙে রাঙানো এক জীবন্ত কাব্য। কৃষ্ণচূড়ার অগ্নিমুখর গ্রীষ্ম, কদমের ভেজা বর্ষা, কাশফুল-ছোঁয়া শরৎ—প্রতিটি ঋতুই এখানে নতুন অনুভূতির জন্ম দেয়। সবুজে মোড়া পথ, নীরব ভবন আর স্মৃতিবাহী প্রান্তর মিলে গড়ে তোলে এমন এক পরিবেশ, যেখানে পাঠ্যপুস্তকের সীমা ছাড়িয়ে শিক্ষা হয়ে ওঠে জীবনবোধের আলো। এই ক্যাম্পাসে ডিগ্রি শুধু সনদ নয়—এটি দায়িত্ব, স্বপ্ন আর ভবিষ্যৎ নির্মাণের অঙ্গীকার। বিকেলের সোনালি আলোয় যখন হাসি-আনন্দে মুখর হয় প্রাঙ্গণ, তখন স্পষ্ট হয়—এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৃতির সৌন্দর্যের মতোই জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার দীপ্তিতে দক্ষিণবঙ্গকে আলোকিত করে চলেছে। পবিপ্রবি তাই এক অনন্ত অনুভূতির নাম, যেখানে স্নিগ্ধতা আর প্রজ্ঞা মিলেমিশে রচনা করে সম্ভাবনার মহাকাব্য।

- বিজ্ঞাপন -

দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে প্রশাসন ভবন, কেরামত আলী হল, বিজয় ২৪, বিজয় ৩৬, বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল-১ ও -২, কবি সুফিয়া কামাল হলসহ সকল অনুষদের একাডেমিক ভবন সমুহ, লাইব্রেরী, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কসমূহে আলোকসজ্জা করা হয়। এ ছাড়াও দুদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রবেশপথে তোরণ নির্মাণ এবং রোড ডিভাইডার ও আইল্যান্ডসমূহে সাজসজ্জা করা হয়।

২৪তম বিশ্ববিদয়ালয় দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় কতৃপক্ষ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। কর্মসূচি অনুযায়ী সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সব হল থেকে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ প্রশাসন ভবনের সামনে সমবেত হবেন। সকাল সোয়া ১০টায় প্রশাসনের সামনে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন, সাড়ে ১০ টায় বেলুন এবং পায়রা উড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে । পরে বেলা ১১টায় এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করবেন। বেলা সাড়ে ১১টায় কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে। দুপুর ১টা ৩০ মি. কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। বিকেল ৫টায় রমজানের গুরুত্ব ও ফজিলত তুলে ধরে হলসমুহে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

প্রতিষ্ঠার ইতিহাস : – কৃষি শিক্ষার প্রসার এবং দক্ষিণাঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সাবেক সচিব ও মন্ত্রী এম. কেরামত আলীর হাতে গড়া পটুয়াখালী কৃষি কলেজকে ২০০২ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলহাজ্ব আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং স্থানীয় বিশিষ্টজনদের নিরলস সহযোগিতায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় অত্র কলেজকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হয়। তখনকার শিক্ষক ও কর্মচারীরা বিশ্ববিদ্যালয়টির চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত হন। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে উপাচার্যের দায়িত্বে রয়েছেন বাকৃবির খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টি আধুনিকতার দিক দিয়ে অগ্রযাত্রায় নিয়োজিত করেছেন। তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত করেছে নিরলস ত্যাগ, সদিচ্ছা ও উদার ভাবমূর্তি।

প্রাকৃতিক অবস্থান:- পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসটি দুমকি উপজেলার কেন্দ্রস্থলে, জেলা শহর থেকে ১৫ কিমি ও বরিশাল শহর থেকে ২৮ কিমি দূরে অবস্থিত। ১০৭.০৩ একরের সবুজে ঘেরা এই ক্যাম্পাসে রয়েছে আধুনিক হল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কেন্দ্রীয় মসজিদ, লাইব্রেরি ও খেলার মাঠ। ‘নীলকমল’ ও ‘লালকমল’ লেক, দৃস্টি নন্দন কাঠের সেতু, ‘বিজয়-২৪ সড়ক’-এর দুপাশে আঁকা আলপনা আর ফুলের সৌন্দর্য মিলে ক্যাম্পাসে এক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। এছাড়া বরিশালের বাবুগঞ্জের খানপুরায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশাল ক্যাম্পাসে ১২.৯৭ একরে পরিচালিত হচ্ছে এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ।

- বিজ্ঞাপন -

বর্তমান অবস্থা:- বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদে ৪৪৮০ জন শিক্ষার্থী, ২৬৫ শিক্ষক, ২২০ কর্মকর্তা ও ৪৮৯জন কর্মচারী কর্মরত। চালু রয়েছে ১০টি ডিগ্রি কোর্স, ১০টি আবাসিক হল ও ৫৫,০০০+ বই সমৃদ্ধ ডিজিটাল লাইব্রেরি।

আধুনিক প্রযুক্তি ও রিসোর্স ব্যবস্থাপনা:- ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য ডিজিটাল পরিচয়পত্র (ইলেকট্রনিক চিপ) প্রবর্তিত হয়েছে। ক্যাম্পাসব্যাপী হাই‑স্পিড ওয়াই‑ফাই, বাস, মিনিবাস ও মাইক্রোবাস সংযুক্তি, চালু হতে যাচ্ছে অটোমেশন প্রক্রিয়া। যাতে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনায় ডিজিটাল রূপায়ণ হবে।

গবেষণা ও আন্তর্জাতিক সংযুক্তি: বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে আট শতাধিক গবেষণা প্রকল্প। ধানের ৯টি জাত উদ্ভাবন, বায়োচার প্রযুক্তির প্রয়োগ, জলহস্তী ও বাঘের কঙ্কাল সংরক্ষণ কিংবা কোরাল মাছ চাষে সাফল্য—সবই বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার বহুমাত্রিক অগ্রযাত্রার প্রমাণ। চলমান আন্তর্জাতিক প্রকল্প BangFish, EcoPrawn ও Fish SAFE 2025 বিশ্ববিদ্যালয়কে বৈশ্বিক গবেষণার সেতুবন্ধনে যুক্ত করেছে। চীন, জাপান, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি সহ বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে চুক্তি, ভারত ও নেপাল থেকে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ—সব মিলিয়ে পবিপ্রবি এখন আন্তর্জাতিক সংযোগের এক উজ্জ্বল নাম।

দক্ষিণের নদীবিধৌত জনপদে জ্ঞানের দীপ জ্বালিয়ে ২৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ মাহেন্দ্রক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হয়েছে প্রত্যয়ের ভাষা, দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার এবং আগামীর দিগন্তছোঁয়া স্বপ্ন।
শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে উচ্চারিত হলো দায়িত্ববোধের দীপ্ত প্রত্যাশা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দঘন আবহেও থেমে থাকেনি তাঁদের সচেতন প্রশ্ন ও সম্ভাবনার স্বপ্ন। জাহিদুল ইসলাম রাতুল, সোহেল রানা জনি, রাকিব, আনাস, প্রিতম, আকাশ, আফিয়া জাহিন ও সুকন্যা টিপু দৃঢ় কণ্ঠে দাবি তুলেছেন—সৎ ও যোগ্য কর্মকর্তার নিয়োগ, হল বাজেটে স্বচ্ছতা, বিভাগভিত্তিক ডিগ্রি চালু, গবেষণায় বাড়তি বরাদ্দ এবং জবাবদিহির নিশ্চয়তা। তাঁদের বিশ্বাস, নিরাপদ আবাসন, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা ও গবেষণার উন্মুক্ত সুযোগ ছাড়া কোনো বিশ্ববিদ্যালয় তার পূর্ণ সম্ভাবনায় বিকশিত হতে পারে না। এই সচেতন ও সাহসী উচ্চারণই জানান দেয়—পবিপ্রবি আজ কেবল পাঠশালা নয়, এটি দায়িত্ববান, স্বপ্নদর্শী এক প্রজন্মের বিকাশভূমি।

ইএসডিএম অনুষদের সহকারী অধ্যাপক ও অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্পের উপপরিচালক সিভিল প্রকৌশলী মুহাইমিনুল আলম ফাইয়াজের কণ্ঠে শোনা গেল গভীর দায়বোধের উচ্চারণ। শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি কেবল একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন; তিনি একজন অভিভাবক, একজন স্বপ্ননির্মাতা। তিনি বলেন, “পবিপ্রবি আমার কাছে শুধু কর্মস্থল নয়, এটি আমার আত্মার ঠিকানা। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল পদ ছেড়ে এসেছি এক বিশ্বাসে—শিক্ষাই জাতির প্রকৃত শক্তি। আমরা শুধু ভবন নয়, গড়ে তুলছি এমন এক বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিরাপদ, আধুনিক ও উদ্ভাবনমুখর পরিবেশে নিজের স্বপ্নকে ডানা মেলে উড়তে শিখবে।” প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ভূমি উন্নয়ন থেকে শুরু করে আধুনিক একাডেমিক ভবন, ১০ তলা দুটি ছাত্রাবাস, সুফিয়া কামাল হলের সম্প্রসারণ, পোস্ট গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, কালচারাল ল্যাবরেটরি, মুক্তমঞ্চ, মিনি স্টেডিয়াম ও অত্যাধুনিক ব্যায়ামাগার—সব মিলিয়ে গড়ে উঠছে এক প্রাণবন্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ক্যাম্পাস। বরিশাল ক্যাম্পাস ও মেরিন ফিশারিজ ইনস্টিটিউটের বৃহৎ উন্নয়ন পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে। তাঁর ভাষায়,
“আমাদের প্রতিটি ইট, প্রতিটি নকশা নিবেদিত আগামী দিনের বাংলাদেশের স্বপ্নসাধকদের জন্য।”

ফিরে আসার গল্প: কৃতজ্ঞতার নীরব জয় : একসময় এই ক্যাম্পাসে স্বপ্ন বুনেছিলেন যাঁরা, আজ তাঁরা শিক্ষক হয়ে ফিরে এসে গড়ে তুলছেন নতুন প্রজন্ম। মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী পরিচালক (ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা) তরুণ কৃষি বিজ্ঞানী ড. সগিরুল ইসলাম মজুমদার বলেন,“এই ক্যাম্পাস আমার দ্বিতীয় জন্মভূমি। কাদামাটির গন্ধে কৃষির যাত্রা শুরু হয়েছিল, আজ সেই পথেই অন্যদের পথ দেখাচ্ছি। জাপানে উচ্চশিক্ষা শেষে ফিরে এসেছি আত্মার ঠিকানায়।” উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও সহকারী প্রক্টর ড. মুহাম্মদ ইকবাল হোসেনের কণ্ঠেও ধ্বনিত হয় সেই একই আবেগ “একদিন যে স্বপ্ন দেখতাম এই ক্যাম্পাসে শিক্ষক হওয়ার, আজ সেই স্বপ্নই বাস্তব হয়েছে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ্য প্রক্টর প্রফেসর আবুল বাশার খান বলেন,“প্রশাসনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে ন্যায়পরায়ণতা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য; যেন এই ক্যাম্পাস থাকে নিরাপদ ও নির্ভার।”

প্রো-ভাইস চ্যান্সেলরের প্রত্যয়ের উচ্চারণ : প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, বিশিষ্ট কীটতত্ত্ববিদ ও কৃষি অনুষদের সিনিয়র প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান তুলে ধরেছেন এক দীপ্ত স্বপ্নের কথা। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণাভিত্তিক ও নৈতিক শিক্ষাঙ্গনে রূপান্তরের অঙ্গীকার নিয়ে কাজ করছেন। দক্ষিণ কোরিয়ার Kyungpook National University থেকে পিএইচডি অর্জন করা এই শিক্ষাবিদ আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলেও সুপরিচিত। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি বলেন, “দক্ষিণ বঙ্গের অক্সফোর্ড খ্যাত পবিপ্রবি কেবল ইট-পাথরের সমষ্টি নয়; এটি এক নতুন সভ্যতা নির্মাণের আঁতুড়ঘর। আমি চাই এখানে না থাকুক মাদক, র‍্যাগিং বা ভয়ভীতি; বরং প্রতিটি কোণে জ্বলে উঠুক গবেষণার দীপ্তি, নৈতিকতার দৃঢ়তা ও উদ্ভাবনের আলোকরশ্মি।” তিনি আরও যোগ করেন, “গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে জ্ঞানভিত্তিক শক্তিতে রূপান্তর করতে চাই। আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পবিপ্রবি একদিন শুধু দেশের নয়, বিশ্বের শ্রেষ্ঠ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাতারে স্থান করে নেবে।” তাঁর কণ্ঠে উচ্চারিত এই প্রত্যয় যেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আকাশে এক নতুন প্রভাতের সূচনা—যেখানে প্রতিটি স্বপ্ন পাবে ডানা, আর প্রতিটি শিক্ষার্থী খুঁজে পাবে নিজের সম্ভাবনার দীপ্ত পথ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রভাতে উচ্চারণ করেন এক মানবিক অঙ্গীকার “আমার স্বপ্ন পবিপ্রবিকে এমন এক আদর্শ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপ দেওয়া, যেখানে শিক্ষা কেবল পেশাগত দক্ষতার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি হবে চরিত্র গঠনের মূল ভিত্তি।” তাঁর দৃষ্টিতে বিশ্ববিদ্যালয় মানে জ্ঞানচর্চার পাশাপাশি মূল্যবোধের বিকাশ।

পরিশেষে, চব্বিশ বছরের গৌরবময় অভিযাত্রায় পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রমাণ করেছে—সম্মিলিত স্বপ্ন, নৈতিক নেতৃত্ব ও গবেষণার দীপ্তি মিললেই প্রতিকূল পথও আলোকিত হয়ে ওঠে। অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ ও নিরলস সাধনায় এই বিদ্যাপীঠ আজ দক্ষিণাঞ্চল পেরিয়ে জাতীয় অগ্রযাত্রার এক উজ্জ্বল প্রতীক। সবুজে ঘেরা শান্ত ক্যাম্পাস, লালকমল-নীলকমল লেকের নীরবতা আর গবেষণাগারের মননশীল পরিবেশে প্রতিনিয়ত জন্ম নিচ্ছে নতুন স্বপ্ন, বিকশিত হচ্ছে আগামী প্রজন্মের সম্ভাবনা। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই প্রেরণাময় দিনে আমাদের প্রত্যাশা—দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা ও সততার আলোয় দীক্ষিত হয়ে পবিপ্রবি ধাবিত হোক উন্নয়নের মহাসড়কে, হয়ে উঠুক বিশ্বমানের জ্ঞানচর্চার এক দীপ্ত কেন্দ্র। জয়তু, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

আপনার মন্তব্য লিখুন

- Google -

আরও পড়ুন

Back to top button