কেউ চাঁদা চাইলে বেঁধে রেখে খবর দেবেন: এমপি মোশাররফ

‘যেসব ঘাট সরকারিভাবে ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেসব ছাড়া অন্য কোথাও তরমুজ নামানোর জন্য এক টাকাও কেউ দিবেন না। কেউ চাঁদা চাইলে তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে আমাকে খবর দিবেন। চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কোনো দ্বিধা নেই। এক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’
এভাবেই কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন।
নির্বাচনপরবর্তী সময়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি রাঙ্গাবালী সফর করেন।
প্রথমে উপজেলা সদরে দলীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত সভায় এবং পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় ও আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এমপি এবিএম মোশাররফ।
বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষকরা মাথার ঘাম ঝরিয়ে তরমুজ উৎপাদন করেন। অথচ কিছু স্থানে প্রতি পিস তরমুজে ১-২ টাকা করে চাঁদা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সরকারি ইজারা দেওয়া ঘাটে নির্ধারিত টাকা নেওয়া হলে সমস্যা নেই, কিন্তু যত্রতত্র ঘাট বসিয়ে টাকা আদায় করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। চাঁদাবাজ বাঁধলে কোনো অসুবিধা নাই। সন্ত্রাসী বাঁধলে কোনো অসুবিধা নাই। আপনাদের সঙ্গে আমি আছি। কারণ আমি ওয়াদা করেছিলাম-আগামী দিনে একটি সুন্দর রাঙ্গাবালী আপনাদের উপহার দেব।
নানান অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সরকারি তালিকাভুক্ত ঘাট ব্যতীত খাস আদায়ের কথা বলে তহশিলদার একটি কাগজ দিয়ে যেকোনো একজনকে দেখাশোনার দায়িত্ব দেন, এরপর একটি ঘাট করে প্রতি পিস তরমুজে ১-২ টাকা করে আদায় করা হয়। এতে কৃষকরা হয়রানির শিকার হন। কৃষক বাঁচাতে হবে, হয়রানি বন্ধ করতে হবে।
দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি সতর্ক করে বলেন, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ চাঁদাবাজি, মস্তানি বা মানুষের ক্ষতি করলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। দলের কেউ জড়িত থাকলেও প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এ সময় তিনি আরও বলেন, চলতি মাসে সম্ভব না হলেও আগামী মাসে খাল খনন প্রকল্প শুরু করা হবে। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় ও আইনশৃঙ্খলা সভায় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঞা, রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর রহমান ফরাজী ও উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ হাওলাদার প্রমুখ।




আপনার মন্তব্য লিখুন