ঈদকে সামনে রেখে পর্যটক বরণে প্রস্তুতি কুয়াকাটা,নিরাপত্তা ও সেবায় বাড়তি নজর

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কুয়াকাটা এখন পর্যটক বরণে পুরোপুরি প্রস্তুত। ইতোমধ্যে হোটেল-রিসোর্টগুলোতে শুরু হয়েছে ধোয়া-মোছা,সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। পাশাপাশি বেড়েছে অগ্রিম বুকিংয়ের চাপ প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোতে গড়ে ৭০ থেকে ৮0 শতাংশ কক্ষ ইতোমধ্যেই বুকড হয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসজুড়ে পর্যটক কম থাকায় এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে হোটেল-মোটেলগুলো নিজেদের নতুনভাবে প্রস্তুত করেছে। কক্ষ সংস্কার, আধুনিকায়ন ও বাড়তি সুবিধা সংযোজনের মাধ্যমে পর্যটকদের আকর্ষণে চলছে প্রতিযোগিতা।
ট্যুর অপারেটরস এসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক)সেক্রেটারি জেনারেল আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, ঈদের টানা ছুটিতে কুয়াকাটায় লাখো পর্যটকের সমাগম ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ, উঁচু ঢেউ এবং জেলেদের মাছ ধরার দৃশ্য পর্যটকদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠবে।
কুয়াকাটায় বর্তমানে ২২০টিরও বেশি আবাসিক হোটেল রয়েছে, যার ধারণক্ষমতা প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার। তবে ঈদের মতো বড় ছুটিতে প্রতিদিন পর্যটকের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ফলে অনেক পর্যটক দিনভ্রমণ শেষে ফিরে যান, আবার কেউ কেউ বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থাও গ্রহণ করেন।
সিকদার রিসোর্ট এন্ড ভিলা এজিএম আল-আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাদের রিসোর্টে ভালো বুকিং এর সাড়া পাচ্ছে ইতোমধ্যেই ঈদ পরবর্তী ৩-৪ দিনের জন্য প্রায় ৫০ শতাংশ বুকিং সম্পন্ন হয়েছে। পর্যটকদের উন্নত সেবা দিতে সুইমিং সুবিধা এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে।
অন্যদিকে, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল এমপ্লয়িজ এসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, অনেক পর্যটক পরিবহন সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে এর প্রভাব পর্যটন খাতে পড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
কুয়াকাটা ট্যুর গাইড সাধারণ সম্পাদক শামীম রেজা বলেন,পর্যটকদের সেবা দিতে শতাধিক ট্যুর গাইড প্রস্তুত রয়েছে এবং ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ট্যুর বুকিংও সম্পন্ন হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কুয়াকাটা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কাউছার হামিদ জানান, অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট, স্কাউট, স্বেচ্ছাসেবক ও রেসকিউ টিম মাঠে কাজ করবে।
ট্যুরিস্ট পুলিশ কুয়াকাটা রিজিয়নের সহকারী পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, লেম্বুরবন থেকে রামনাবাদ চ্যানেল পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক টিম মোতায়েন থাকবে। জল ও স্থলপথে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
সবমিলিয়ে, ঈদকে ঘিরে কুয়াকাটা এখন প্রাণ ফিরে পাচ্ছে পর্যটকদের পদচারণায় আবারও মুখর হয়ে উঠবে সমুদ্র সৈকত, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।




আপনার মন্তব্য লিখুন